নিজের কষ্টার্জিত সঞ্চয়কে নিরাপদে রাখতে ফিক্সড ডিপোজিট (FD) এখনও ভারতের আমজনতার কাছে এক নম্বর পছন্দ। শেয়ার বাজারের অস্থিরতা বা অন্য কোনো জটিল বিনিয়োগের চেয়ে FD-এর নির্দিষ্ট মেয়াদ এবং নিশ্চিত রিটার্ন সাধারণ মানুষকে বেশি ভরসা যোগায়। বিশেষ করে যারা মূলধনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি আর্থিক লক্ষ্য পূরণ করতে চান, তাদের জন্য FD একটি আদর্শ মাধ্যম।
ফিক্সড ডিপোজিটের অন্যতম বড় আকর্ষণ হলো এর নিশ্চয়তা। সেভিংস অ্যাকাউন্টের তুলনায় এতে সুদের হার অনেক বেশি পাওয়া যায়। তবে বর্তমানে সরকারি, বেসরকারি ও স্মল ফাইন্যান্স ব্যাংকগুলোর সুদের হারে আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে। তাই বিনিয়োগের আগে কোন ব্যাংক কতটা সুদ দিচ্ছে, তা তুলনা করা অত্যন্ত জরুরি।
২০২৬ সালের জুন মাসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এসবিআই (SBI), পিএনবি (PNB), এইচডিএফসি (HDFC) এবং কানারা ব্যাংকের মতো বড় সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো ১ বছরের মেয়াদে ৬.২৫ শতাংশ থেকে ৬.৫০ শতাংশ পর্যন্ত সুদ দিচ্ছে। অন্যদিকে, ইয়েস ব্যাংক বা ইন্ডাসইন্ড ব্যাংকের মতো বেসরকারি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ৬.৭৫ শতাংশ পর্যন্ত সুদ অফার করছে।
তবে আপনি যদি সুদের হার নিয়ে একটু বেশি সচেতন হন, তবে আপনার নজর রাখা উচিত স্মল ফাইন্যান্স ব্যাংকগুলোর দিকে। বর্তমানে সূর্যোদয় স্মল ফাইন্যান্স ব্যাংক এবং জানা স্মল ফাইন্যান্স ব্যাংক ১ বছরের FD-তে ৭.২৫ শতাংশ থেকে ৮.০০ শতাংশ পর্যন্ত আকর্ষণীয় সুদ দিচ্ছে। ছোট ব্যাংক হলেও এগুলোতে আমানত রাখা বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে, কারণ এগুলো অনেক ক্ষেত্রেই বড় ব্যাংকগুলোর তুলনায় বেশি রিটার্ন প্রদান করে।
তবে আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র বেশি সুদের হার দেখেই হুট করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। বিনিয়োগের আগে ব্যাংকের বিশ্বাসযোগ্যতা, আমানতের নিরাপত্তা (ডিআইসিজিসি ইন্স্যুরেন্স), এবং প্রয়োজনের সময় আমানত ভাঙার (প্রিম্যাচিউর উইথড্রয়াল) নিয়মগুলো ভালোভাবে দেখে নেওয়া প্রয়োজন। সুদের হার যে কোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে, তাই ব্যাংকের বর্তমান সার্কুলার যাচাই করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
সারসংক্ষেপে, যারা ঝুঁকিহীন এবং স্থিতিশীল আয়ের খোঁজ করছেন, তাদের জন্য ফিক্সড ডিপোজিট এখনও অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তবে আপনার পোর্টফোলিওকে সেরা রিটার্ন দিতে বিভিন্ন ব্যাংকের অফারগুলো নিয়মিত ট্র্যাক করুন এবং একটি সচেতন বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিন।





