বিনোদন জগতে বরাবরই নিজের স্পষ্টবক্তা ইমেজের জন্য পরিচিত কঙ্গনা রানাওয়াত। কিন্তু এবার কোনো বিতর্ক নয়, বরং কর্মজীবী মায়েদের অধিকার এবং কর্মক্ষেত্রে পরিকাঠামোর অভাব নিয়ে এক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জরুরি বিষয়ে সরব হলেন এই অভিনেত্রী তথা সাংসদ। তাঁর আসন্ন ছবি ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’-র প্রচারের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি শুটিং সেটে শিশুদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশের অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
সম্প্রতি ‘পেন স্টুডিওস’-এর একটি প্রচারমূলক সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহ-অভিনেত্রী স্মিতা তাম্বে এবং গিরিজা ওকের সঙ্গে। সেখানে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে কর্মজীবী মায়েদের প্রতিদিনের সংগ্রামের বাস্তব চিত্র। কঙ্গনা জানান, শুটিং চলাকালীন স্মিতা তাম্বের কন্যা এবং ক্রু মেম্বার অক্ষতের সন্তান প্রায়ই সেটে উপস্থিত থাকত। স্মিতা নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে জানান, ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে শট দেওয়ার সময়ও তাঁর মন পড়ে থাকত সন্তানের কাছে— “সে কি ঠিক সময়ে ঘুমাল? সে কি নিরাপদ?” যদিও সহকর্মীদের সহযোগিতায় বাচ্চারা সেটে নিরাপদই থাকত, কিন্তু এই বিষয়টি কঙ্গনাকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে।
কঙ্গনা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা কর্মক্ষেত্রে প্রার্থনাকক্ষ, জিম বা অন্যান্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধার কথা বলি, কিন্তু মায়েদের জন্য ডে-কেয়ার বা শিশুদের খেলার মতো কোনো নির্দিষ্ট ঘর কেন থাকে না?” অভিনেত্রী মনে করিয়ে দেন যে, মুখে ‘নারী ক্ষমতায়ন’-এর বুলি আওড়ালে হবে না, তার জন্য উপযুক্ত পরিকাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন। বিনোদন জগতের গ্ল্যামারের আড়ালে থাকা এই কঠিন বাস্তবটি সামনে এনে তিনি দাবি করেন, মাতৃত্বকালীন ছুটি কাটিয়ে যখন প্রতিভাবান নারীরা কাজে ফিরতে চান, তখন উপযুক্ত ক্রেশের ব্যবস্থা না থাকায় তাঁদের ক্যারিয়ার ও পরিবারের মধ্যে যে কোনো একটিকে বেছে নিতে হয়।
কঙ্গনার মতে, সরকার সংরক্ষণের মাধ্যমে নারীদের কর্মক্ষেত্রে উৎসাহিত করলেও, কর্মস্থলে মায়েরা সন্তানদের নিরাপদে রাখার জায়গা না পেলে সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হতে বাধ্য। সহ-অভিনেত্রী গিরিজাও কঙ্গনার সুরে সুর মিলিয়ে বলেন, এটি কোনো দয়া বা মানবিকতার খাতিরে পাওয়া সুযোগ হওয়া উচিত নয়, বরং এটি মায়েরা হিসেবে তাঁদের আইনি অধিকার।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ জুন মুক্তি পেতে চলেছে থ্রিলার ছবি ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’। ২০০৮ সালের মুম্বাই সন্ত্রাসী হামলার সময় কামা হাসপাতালের নার্স এবং চিকিৎসকদের বীরত্বের সত্য ঘটনা অবলম্বনে এই ছবির চিত্রনাট্য তৈরি। যেখানে হাসপাতালের কর্মীদের বীরত্বের পাশাপাশি নারীদের জীবনের বাস্তব সংগ্রামকেও নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন কঙ্গনা। বর্তমান সময়ে যখন দীপিকা পাড়ুকোনের মতো শীর্ষ তারকারাও মাতৃত্ব ও কাজের ভারসাম্য নিয়ে মুখ খুলছেন, তখন কঙ্গনার এই মন্তব্য বিনোদন মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কর্মক্ষেত্রে নারীদের সমতা ও মর্যাদার লড়াইয়ে কঙ্গনার এই দাবি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।





