সদ্য শপথ গ্রহণ ও মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের ব্যস্ততা কাটিয়েই পুরোদমে ময়দানে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী। সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শোনার লক্ষ্যে বিজেপির ‘সিগনেচার কর্মসূচি’—‘জনতার দরবার’—নিয়ে আজ সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে ব্যস্ত সময় কাটালেন তিনি। সোমবার নির্ধারিত থাকলেও মন্ত্রীসভার শপথের কারণে তা পিছিয়ে আজ, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই সল্টলেক বিজেপি দফতরে দেখা যায় সাধারণ মানুষের লম্বা লাইন। গত এক সপ্তাহ ধরে আসা অভিযোগগুলোর ভিত্তিতে টোকেন নম্বর দিয়ে নির্দিষ্ট সারিতে সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তবে আজ এই দরবারের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে সঙ্গীত জগতের এক চাঞ্চল্যকর অধ্যায়। দীর্ঘ ১২-১৫ বছর ধরে সরকারি অনুষ্ঠানে ব্রাত্য থাকা সঙ্গীতশিল্পীরা এদিন মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী দলনেতার সামনে তুলে ধরেছেন লবিবাজি ও কাটমানি আদায়ের ভয়াবহ চিত্র। প্রাক্তন মন্ত্রী তথা সঙ্গীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে উঠেছে সিন্ডিকেট রাজ চালানোর অভিযোগ।
শিল্পী ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, “ইন্দ্রনীল সেনের অধীনে একটি বিশেষ চক্র কাজ করত। যারা তাদের লবির অনুগত ছিল, তারাই একের পর এক অনুষ্ঠান পেত এবং মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক পেত। সেই টাকা ব্যাঙ্কে ঢুকে ফের কাটমানির মতো করে অন্য জায়গায় চলে আসত। যাঁরা এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিলেন, তাঁদের দীর্ঘ ১২-১৩ বছর ধরে ব্যান করে রাখা হয়েছে।”
সঙ্গীতশিল্পী দোলা মুখোপাধ্যায়ও একই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি নিয়মিত বাংলাদেশসহ বিদেশে অনুষ্ঠানে গান গাইলেও, এ রাজ্যে সরকারি কোনো অনুষ্ঠানে গত ১৫ বছরে ডাক পাননি। শিল্পীদের স্পষ্ট অভিযোগ, যারা শাসকদলের সেই নির্দিষ্ট লবি বা সিন্ডিকেটের সাথে ‘হ্যাঁ-তে হ্যাঁ’ মিলিয়ে চলেননি, তাঁদেরই চরম বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে। সঙ্গীত জগতের মতো সৃজনশীল ক্ষেত্রেও সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে অনুষ্ঠানের সুযোগ বণ্টনে একনায়কতন্ত্র চালিয়েছেন তৎকালীন গায়ক মন্ত্রী ও তাঁর অনুগত লবি।
বিজেপির এই ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্যই হলো তৃণমূল স্তরের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভের সুরাহা করা। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী যখন এই কর্মসূচির ঘোষণা করেছিলেন, তখন থেকেই সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া মিলেছে। প্রতি সোমবার সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলার কথা থাকলেও, রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রয়োজনে তা মাঝেমাঝেই পরিবর্তিত হচ্ছে। তবে এদিনের দরবারে যেভাবে শিল্পী মহল থেকে শুরু করে ভোট-পরবর্তী হিংসার শিকার মানুষেরা ভিড় জমিয়েছেন, তা থেকে স্পষ্ট যে সাধারণ মানুষ এখন দ্রুত বিচারের আশায় তাকিয়ে আছেন।
মুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী দলনেতার এই উদ্যোগ কি সত্যিই দীর্ঘদিনের জমে থাকা এই কাটমানি ও লবিবাজির বিষবাষ্প দূর করতে পারবে? আপাতত সল্টলেকের এই দরবার ঘিরে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে শোরগোল তুঙ্গে।





