মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার সোনাকুল গ্রামে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। সরকারি প্রকল্পের টাকা প্রাপকের বদলে ঢুকেছে অন্য একজনের অ্যাকাউন্টে—এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আসায় নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহল। ভুক্তভোগী নুন নাহারের অভিযোগ, ২০২০ সালে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্য আবেদন করার পর থেকে আজ পর্যন্ত তিনি একটি টাকাও পাননি। অথচ ব্যাংকের নথি ও স্টেটমেন্ট বলছে, তাঁর নামে বরাদ্দ সরকারি টাকা ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত নিয়মিত জমা পড়েছে গ্রামেরই এক প্রাইভেট টিউটর গোলাম মর্তুজার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নুন নাহার জানিয়েছেন, তিনি বারবার দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে গিয়ে অভিযোগ জানালেও কোনো সুরাহা মেলেনি। টানা পাঁচ বছর ধরে অন্যের টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া সত্ত্বেও অভিযুক্ত শিক্ষক কেন বিষয়টি গোপন রাখলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে জনমানসে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, এটি কেবল প্রশাসনিক গাফিলতি নয়, বরং একটি পরিকল্পিত দুর্নীতির অংশ।
ঘটনার দায় নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপি। বিজেপি নেতা ওমপ্রকাশ ঘোষের অভিযোগ, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডারই নয়, গাছ লাগানো প্রকল্প থেকে শুরু করে ইন্দিরা আবাস যোজনা—সব ক্ষেত্রেই দুর্নীতির পাহাড় গড়ে উঠেছে। এটা মাত্র একটি উদাহরণ, আগামী দিনে আরও বড় কেলেঙ্কারির পর্দাফাঁস হবে।” বিজেপির দাবি, এই চক্রের শিকার হয়েছেন এলাকার অন্তত ৩০০-র বেশি পরিবার।
এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। হরিশ্চন্দ্রপুরের তৃণমূল বিধায়ক মতিবুর রহমান এই ঘটনার কঠোর নিন্দা করে জানিয়েছেন, “এ ধরনের অন্যায় কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।” তবে বিধায়কের মন্তব্য নতুন জল্পনা উসকে দিয়েছে। তিনি সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন স্থানীয় প্রশাসনের একাংশ, বিডিও এবং প্রাক্তন বিধায়ক তাজমুল হোসেন ঘনিষ্ঠ মহলের দিকে। তাঁর এই বিস্ফোরক ইঙ্গিত প্রশাসনিক মহলে শোরগোল ফেলেছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর হরিশ্চন্দ্রপুরের সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়েছে। তাদের প্রশ্ন, যদি সঠিক প্রাপকের টাকা এভাবে দিনের পর দিন অন্যের অ্যাকাউন্টে চলে যেতে পারে, তবে সরকারি প্রকল্পের সুরক্ষা কোথায়? এই দুর্নীতি কেবল একজন শিক্ষকের নাকি এর পেছনে কোনো শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে, তা নিয়ে এখন পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি উঠেছে। প্রশাসন এই দুর্নীতির জাল কতটা ভাঙতে পারবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।





