আন্দামানে সময়ের আগেই বর্ষার প্রবেশ ঘটলেও, কেরলে মৌসুমী বায়ুর আগমন নিয়ে কিছুটা ধন্দ তৈরি হয়েছিল। তবে আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই কেরল এবং তামিলনাড়ুর কিছু অংশে বর্ষা প্রবেশ করতে চলেছে। আবহাওয়া বিজ্ঞানী অন্বেষা ভট্টাচার্যের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগে ২৬ মে-র পূর্বাভাস থাকলেও কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। তবে বঙ্গে বর্ষার আগমনের সঠিক দিনক্ষণ নিয়ে এখনও নিশ্চিত করে কিছু জানানো হয়নি।
দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ার হালচাল:
আপাতত দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দাদের অস্বস্তিকর গরমের সঙ্গেই লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। আগামী বুধবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। ভ্যাপসা গরম এবং আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকবে। তবে স্বস্তির খবর হলো, বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় আবহাওয়া বদলের সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদীয়া জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। তার আগে পর্যন্ত স্থানীয় বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে বিক্ষিপ্তভাবে ছিটেফোঁটা বৃষ্টি হতে পারে।
উত্তরবঙ্গের দুর্যোগের পূর্বাভাস:
উত্তরবঙ্গে এখন চলছে প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি। তবে দার্জিলিংয়ের সমতল এলাকা, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার—এই চার জেলায় বুধবার পর্যন্ত গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া বজায় থাকবে। আজ থেকেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি শুরু হবে। আবহাওয়া দপ্তরের মতে, ৪ জুন থেকে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা ও ব্যাপকতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। ৪ ও ৫ জুন উত্তরবঙ্গের প্রতিটি জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রপাতের আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। আগামী তিনদিন তাপমাত্রা স্থিতিশীল থাকলেও, ৪ জুনের পর থেকে তাপমাত্রা ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সোমবার কলকাতার আবহাওয়া ছিল গুমোট। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য কম হলেও আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকায় অস্বস্তি তুঙ্গে ছিল। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা সর্বোচ্চ ৯৫ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৫৪ শতাংশ থাকায় সাধারণ মানুষ নাজেহাল। আজ মঙ্গলবার দিনের আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে। বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে কলকাতার কোনো কোনো অংশে হালকা বৃষ্টি হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দাদের গরমের হাত থেকে রেহাই পেতে আরও অন্তত ৪৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের আকাশ ক্রমশ দুর্যোগপূর্ণ হয়ে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তরের নজর এখন মৌসুমী বায়ুর পরবর্তী গতির ওপর।





