অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে নাম নথিভুক্ত করেছেন? টাকা পাওয়ার আগে জরুরি আপডেটটি দেখে নিন

রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া। ১ জুন থেকে সরকারি পোর্টালে এই আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। রাজ্যের মহিলাদের জন্য ৩ হাজার টাকা ভাতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা নতুন সরকারের এই প্রকল্পকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নতুন খবর অনুযায়ী, সমস্ত নথিপত্র ঠিক থাকলে বুধবার থেকেই যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো শুরু করবে প্রশাসন।

উল্লেখ্য, এতদিন রাজ্যে চালু ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চালু করা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প, যেখানে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা ১৫০০ টাকা এবং তপশিলি জাতির মহিলারা ১৭০০ টাকা করে পেতেন। তবে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার আগেই মহিলাদের জন্য ৩ হাজার টাকা ভাতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যা এখন বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই প্রকল্পে আবেদন করার জন্য ইচ্ছুক প্রার্থীদের https://socialsecurity.wb.gov.in/ পোর্টালে গিয়ে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ লিঙ্কে ক্লিক করে আবেদন করতে হচ্ছে।

তবে এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে গেলে বেশ কিছু নিয়ম ও ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পের উপভোক্তা হওয়ার জন্য ১১ পাতার একটি বিস্তারিত ফর্ম পূরণ করতে হচ্ছে। সেখানে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্ত তথ্য চাওয়া হয়েছে। এই দীর্ঘ ফর্মের মাধ্যমেই দুর্নীতির পথ পুরোপুরি বন্ধ করতে চাইছে প্রশাসন। সরকারি সূত্রের দাবি, অতীতের প্রকল্পগুলিতে বিপুল জালিয়াতি হয়েছিল। এমনকি এমন বহু ব্যক্তি টাকা পেয়েছেন যারা এই প্রকল্পের যোগ্য নন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ প্রসঙ্গে অভিযোগ করেছেন যে, এতদিন ধরে বহু অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এবং তৃণমূলের পুরুষ নেতারা পর্যন্ত মহিলা সেজে ভাতার টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

এই জালিয়াতি রুখতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বুধবার থেকে টাকা দেওয়া শুরু হলেও প্রশাসন সাপ্তাহিক ভিত্তিতে নজরদারি চালাবে। প্রতি সপ্তাহে রিপোর্ট তৈরি করা হবে যে কত সংখ্যক আবেদনকারীর তথ্য সঠিকভাবে ভেরিফাই করা হয়েছে। বর্তমানে নিয়মিতভাবে দৈনিক ২ লক্ষ আবেদনপত্র যাচাই করা হচ্ছে।

পুরো প্রক্রিয়াটিকে নির্বিঘ্ন করতে রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ আগরওয়াল ২২টি জেলার জন্য ২২ জন সচিব ও প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি পদমর্যাদার আধিকারিককে নিয়োগ করেছেন। এই আধিকারিকরা পুরো বিষয়টি তদারকি করবেন। পাশাপাশি, আশা কর্মী, বিএলও এবং অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিলি ও তথ্য সংগ্রহের কাজ করছেন কি না, তাও নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, সব তথ্য ঠিক থাকলে দ্রুতই গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে। তাই যারা এখনও আবেদন করেননি, তারা দ্রুত সরকারি পোর্টালে গিয়ে নাম নথিভুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সঠিক উপভোক্তার হাতেই টাকা পৌঁছে দেওয়াই এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy