মঙ্গলবার তারকেশ্বর সফর ঘিরে প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক মহলে তুঙ্গে উদ্দীপনা। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্বিতীয়বার সফরে বেরিয়ে আজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পা রাখছেন তারকেশ্বরের পবিত্র মাটিতে। মন্দিরে পুজো দেওয়ার পাশাপাশি আজ একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। বিশেষ করে আগামী ২০ জুন তারকেশ্বরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভার প্রস্তুতি এবং সভাস্থল পরিদর্শনের বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর আজকের সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
সকাল ৯টা নাগাদ চিনার পার্কের বাসভবন থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে সল্টলেকের বিজেপি পার্টি অফিসে ‘জনতার দরবার’-এ যোগ দেন। সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনার পর সেখান থেকে নবান্ন হয়ে দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ তিনি তারকেশ্বরের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। হুগলির স্থানীয় বিধায়কদের সঙ্গে একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে সমন্বয় বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর। প্রশাসনের কাজের গতি বাড়াতে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তবে তারকেশ্বর সফর ছাড়াও মুখ্যমন্ত্রীর আজকের সূচি বেশ ব্যস্ত। বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ তারকেশ্বর থেকে বেরিয়ে তিনি কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছবেন। এরপর ঠিক বিকেল ৫টায় দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজধানীতে একটি বিশেষ জরুরি বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য এই সফর। রাত ১১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ তাঁর পুনরায় কলকাতায় ফিরে আসার কথা রয়েছে। এক দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলে রাজধানী সফর—মুখ্যমন্ত্রীর কর্মতৎপরতায় এই ব্যস্ততা আজ নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এদিকে, তারকেশ্বর সফরের পাশাপাশি আজ আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে রাজ্যের অন্নপূর্ণা যোজনা। সম্প্রতি এই যোজনার টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের দীর্ঘ নথি পূরণ করতে হচ্ছে। অনেকেই অভিযোগ তুলেছেন, কেন এত ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া হচ্ছে? এই ‘বিভ্রান্তি’ দূর করতে সোমবারই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরব হয়েছিলেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, সরকারি প্রকল্পের অপব্যবহার ও দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ইতিমধ্যেই অনেক জালিয়াতি ধরা পড়েছে। ২২টি ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, পুরুষরা এই প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন। এই জালিয়াতি রুখতেই অন্নপূর্ণা যোজনার ক্ষেত্রে এখন বাড়তি কড়াকড়ি করা হচ্ছে।’’ তবে সাধারণ গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট করেন, যারা প্রকৃত এবং বৈধ সুবিধাভোগী, তাঁরা প্রত্যেকেই এই প্রকল্পের টাকা পাবেন। অকারণে কোনো বৈধ নাগরিককে হয়রানির শিকার হতে হবে না। রাজ্যজুড়ে সরকারি প্রকল্পের সুফল সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই এই নজরদারি এবং নথিপত্রের এই কড়াকড়ি, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।





