“সময় নষ্ট করার মানে নেই!” মমতার বৈঠকে অনুপস্থিত থেকে কেন তোপ দাগলেন বিধায়ক সন্দীপন?

তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ৬০ জন বিধায়কের অনুপস্থিতি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা। এই তালিকায় অন্যতম নাম বিধায়ক সন্দীপন সাহা। কেন তিনি নেত্রীর ডাকা বৈঠকে যোগ দিলেন না, তা নিয়ে সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি।

বৈঠক নিয়ে বিধায়কের অভিযোগ: সন্দীপন সাহার মতে, বৈঠকে উপস্থিত থাকার কোনো যৌক্তিকতাই ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা, ডেপুটি লিডার এবং চিফ হুইপ নির্বাচন সংক্রান্ত প্রস্তাব গৃহীত হলেও তা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মেনে বিধানসভায় জমা দেওয়া হয়নি। সন্দীপন বলেন, “রাজ্যে ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পরও কেন নিয়ম মানা হবে না? বিষয়টি বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও কেন নতুন করে বৈঠক ডাকা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।”

“সময় নষ্টের জায়গা” দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কার্যপদ্ধতি নিয়ে সরাসরি আঙুল তুলেছেন এই বিধায়ক। তাঁর কথায়, “এতদিনের একটি দল, অথচ তারা এখন প্রসেস ফলো করতেই ভুলে গেছে! এতে আমি তাজ্জব। এই বৈঠকে গিয়ে লাভ কী? সেখানে শুধু একতরফা কথা শোনা হবে, আমাদের কথা বলার কোনো সুযোগ নেই। বিধানসভার আইন অনুসরণ না করে ডাকা এই বৈঠকে গিয়ে সময় নষ্ট করার কোনো মানেই হয় না।”

রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়: সন্দীপন সাহার এই মন্তব্য যে তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা হাইভোল্টেজ বৈঠকে ৬০ জনের অনুপস্থিতি এবং তার পরবর্তী এই প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে দলের ভেতরে বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও এই ইস্যুতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

উল্লেখ্য, বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত বিতর্ক এবং দলের অভ্যন্তরীণ পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ এখন প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। আগামী দিনে এই পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy