‘বাংলায় ফিরবেই টাটা!’ সিঙ্গুর নিয়ে বিস্ফোরক শমীক ভট্টাচার্য, রাজনৈতিক মহলে শোরগোল।

পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়নের ইতিহাসে সিঙ্গুর একটি ক্ষতবিক্ষত নাম। এতদিন পরেও সেই বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। এবার এই সিঙ্গুর প্রসঙ্গ তুলেই ফের বড় মন্তব্য করলেন বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য। শিল্পায়নের লক্ষ্যে টাটাদের বাংলায় ফিরিয়ে আনার প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করে তিনি জানালেন, তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, “বাংলায় টাটা ফিরবেই।”

সিঙ্গুর প্রশ্নে কী বললেন শমীক? শমীক ভট্টাচার্য এদিন অকপট স্বীকার করেন যে, সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় রাজ্যে একটি ‘বাজে বার্তা’ পৌঁছেছিল। তাঁর মতে, তৎকালীন পরিস্থিতির নিরিখে শিল্পবিরোধিতা যে ভুল বার্তা দিয়েছিল, তারই মাশুল গুণতে হয়েছে বাংলাকে। দীর্ঘদিনের সেই শিল্প খরা এবং কর্মসংস্থানের অভাব নিয়ে আক্ষেপ করে তিনি বলেন, সিঙ্গুরে যদি সেই শিল্পায়ন হতো, তবে আজকের বাংলার চিত্র অন্যরকম হতে পারত।

শিল্পায়ন ও বিজেপি-র লক্ষ্য: শমীক ভট্টাচার্যের এই বক্তব্যের মূল সারমর্ম হলো—রাজ্যে বিনিয়োগের উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। তাঁর কথায়:

  • ভুল শুধরানো: তৎকালীন যে নেতিবাচক বার্তা শিল্পের বিরুদ্ধে গিয়েছিল, তা মুছে ফেলে এখন শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি করাটাই প্রধান চ্যালেঞ্জ।

  • টাটা-র প্রত্যাবর্তন: তিনি মনে করেন, টাটা গোষ্ঠীর মতো শিল্পোদ্যোগী সংস্থা যদি আবার বাংলায় ফিরে আসে, তবে তা কেবল অর্থনীতির মোড় ঘোরাবে না, বরং যুব প্রজন্মের জন্য নতুন আশার আলো দেখাবে।

রাজনৈতিক চাপানউতোর: শমীক ভট্টাচার্যের এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে বিতর্ক। তৃণমূলের একাংশের দাবি, বিজেপি নেতা আসলে দীর্ঘদিনের পুরনো ইস্যুকে খুঁচিয়ে তুলে সস্তা প্রচার চাইছেন। অন্যদিকে, ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাজ্যে লোকসভা নির্বাচনের আবহে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানকে কেন্দ্র করে বিজেপি যে বড়সড় রাজনৈতিক চাল দিতে চাইছে, এদিনের মন্তব্য তারই একটি ইঙ্গিত।

সিঙ্গুরের জমি এখন ইতিহাস, কিন্তু তার স্মৃতি আজও বাংলার শিল্প-মানচিত্রে বড় প্রভাব ফেলে। শমীক ভট্টাচার্যের এই আশাবাদী বার্তা কতটা বাস্তবে রূপ নেবে, নাকি তা শুধুই রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy