পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ ও মাইন অপসারণ—ইরানের সামনে বড় শর্ত দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মোড়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করে এবং হরমুজ প্রণালীকে অবাধ জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়, তবেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেবে। শুক্রবার হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর এই ঘোষণা দেন তিনি।

কী দাবি ট্রাম্পের? ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি চূড়ান্ত করার আগে তেহরানকে বেশ কিছু কঠোর শর্ত মেনে চলতে হবে। ট্রাম্পের দাবিগুলি হলো:

  • পারমাণবিক অস্ত্র বর্জন: ইরানকে লিখিতভাবে নিশ্চিত করতে হবে যে তারা কখনোই পারমাণবিক বোমা বা অস্ত্র তৈরি করবে না।

  • হরমুজ উন্মুক্ত করা: কোনো রকম টোল ছাড়াই হরমুজ প্রণালীকে উভয় দিক থেকে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য অবিলম্বে খুলে দিতে হবে।

  • মাইন অপসারণ: প্রণালীতে থাকা অবশিষ্ট জলমাইনগুলো ইরানকেই দ্রুত নিষ্ক্রিয় করতে হবে। মার্কিন বাহিনী ইতিমধ্যে অনেকগুলো মাইন অপসারণ করেছে বলে তিনি জানান।

উত্তেজনা হ্রাসের ইঙ্গিত? ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের এই উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ট্রাম্পের এই বার্তাটিকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর একটি বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ। ট্রাম্প জানান, সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদান যা আগে ধসে পড়া পর্বতের নিচে চাপা পড়েছিল, তা এখন যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) যৌথ সহযোগিতায় ধ্বংস করা হবে।

চুক্তির ভবিষ্যৎ যদিও ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির চুক্তিটি এখনো পুরোপুরি অনুমোদিত হয়নি, তবুও ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দুই দেশ একটি চূড়ান্ত চুক্তির দিকে এগিয়ে চলেছে। নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার ফলে হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা জাহাজগুলো এখন স্বাভাবিক পথে ফিরে আসার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে।

ট্রাম্পের এই কঠোর অথচ আপোষকামী অবস্থান আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার বিষয়, তেহরান এই শর্তগুলোর প্রেক্ষিতে পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy