মধ্যপ্রদেশের ঐতিহাসিক দুর্গ থেকে গায়েব প্রাচীন কামান! দুষ্কৃতীদের ধরতে গিয়ে পুলিশ যা আবিষ্কার করল, তা জানলে চমকে যাবেন!

মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলার সুপ্রসিদ্ধ ও ঐতিহাসিক নারওয়ার দুর্গ থেকে একটি মূল্যবান প্রাচীন কামান রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অবশেষে বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থান পুলিশের বিশেষ দলগুলির একটি অত্যন্ত সুসংহত ও সাহসী যৌথ অভিযানে এই দুর্ধর্ষ অপরাধের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত দুই মূল সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। শুধু তাই নয়, অপরাধমূলক এই কর্মকাণ্ডে নিখোঁজ কামানটি পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ট্রাকও পুলিশ সফলভাবে জব্দ করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন দুর্গ চত্বর থেকে কামান চুরির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে নরওয়ার দুর্গের আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং সংলগ্ন সমস্ত প্রধান সড়কগুলোর শত শত সিসিটিভি ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে শুরু করে। দীর্ঘক্ষণ ফুয়েট স্ক্যান করার সময় পুলিশের নজরে পড়ে একটি অত্যন্ত সন্দেহজনক পিকআপ ট্রাক। গাড়িটির লাইসেন্স প্লেট বা নম্বর প্লেট ট্র্যাক করে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে ওই ভিনরাজ্যের বাহনটি পার্শ্ববর্তী রাজ্য রাজস্থানের। এই জোরালো সূত্র ধরে দুই রাজ্যের যৌথ পুলিশ দলটি সোজা পৌঁছে যায় রাজস্থানের করৌলি জেলার হিন্দাউন শহরের অন্তর্গত একটি প্রত্যন্ত মীনা গ্রামে।

রাজস্থানে অভিযুক্তদের সন্ধান ও তল্লাশি চালাতে গিয়ে পুলিশ এই হাই-প্রোফাইল মামলার এমন কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য জানতে পারে যা তদন্তকারীদেরও হতবাক করে দেয়। নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রাপ্ত খবর এবং স্থানীয়দের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, করৌলির হিন্দাউন সিটি এলাকায় একটি পারিবারিক বা ব্যক্তিগত বিবাদের জেরে এই ঐতিহাসিক কামানটি চুরির অভিনব ষড়যন্ত্র রূপায়িত হয়েছিল। পুলিশের কঠোর জেরার মুখে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান যে অভিযুক্ত চোরেরা চুরির পর ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে মহামূল্যবান প্রাচীন কামানটিকে মাটির অনেক গভীরে পুঁতে ফেলেছিল। এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের ভিত্তিতে মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থান পুলিশের যৌথ বাহিনী অবিলম্বে নির্দিষ্ট স্থানে উপস্থিত হয়ে তল্লাশি ও খননকার্য শুরু করলেও, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কামানটি পুরোপুরি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অপরাধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত দুই মূল সন্দেহভাজনকে পাকড়াও করতে সক্ষম হয়েছে।

বর্তমানে দুই রাজ্যের পুলিশের যৌথ তদন্তকারী দলগুলি নিখোঁজ কামানটি দ্রুত উদ্ধার করতে এবং এই চুরির নেপথ্যে লুকিয়ে থাকা পুরো অপরাধ চক্রের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছাতে অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে কাজ করে চলেছে। উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা জানাচ্ছেন যে, প্রাচীন কামানটি এখনও মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করা বাকি থাকলেও, মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হওয়ায় এই জটিল মামলার জট অনেকটাই খুলে গেছে। কামানটির নিখুঁত ও সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করতে পুলিশি হেফাজতে থাকা ধৃত দুই অভিযুক্তকে বর্তমানে একটি নিরাপদ ও গোপন স্থানে নিয়ে গিয়ে লাগাতার জেরা করা হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী যে, খুব শীঘ্রই মাটির নিচ থেকে ঐতিহাসিক কামানটি উদ্ধার করা হবে এবং এর সঙ্গে যুক্ত বাকি অপরাধীদেরও আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।