“আর নিস্তার নেই!” আমলাদের কাজের হিসেবে বসলেন মুখ্যমন্ত্রী, পারফরম্যান্সই হবে ক্যারিয়ারের শেষ কথা!

রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল ও কড়া নজরদারির ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল। এতদিন আমলাতন্ত্রে যা ছিল মূলত ফাইলবন্দি, এবার সেখানে ‘পারফরম্যান্স’ বা কাজের মূল্যায়নকেই প্রাধান্য দিতে চলেছে নবান্ন। সূত্রের খবর, দফতরের সচিবদের কাজের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হবে তাঁদের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। অর্থাৎ, কার চাকরির স্থায়িত্ব কতটুকু বা তিনি কোথায় পোস্টিং পাবেন, তা এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে সরকারি প্রকল্পের রূপায়ণে তাঁর দক্ষতার ওপর।

মুখ্যসচিবের কড়া নির্দেশে স্পষ্ট, নয়া সরকারের আমলে শুরু হওয়া জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো কতটা দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, তার ওপরই বসছে কঠোর নজরদারি। প্রকল্পের কাজে দীর্ঘসূত্রিতা বা গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। আগামী দু-থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন দফতরের সচিবদের কাজের মূল্যায়ন করবেন বলে নবান্ন সূত্রে জানা গেছে। আমলাদের সরাসরি কাজের ওপর এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়া প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।

এদিকে, রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যস্ততার মধ্যেই শুরু হয়েছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের তোড়জোড়। গত বুধবারই এই প্রকল্পের জন্য নির্দিষ্ট ফর্ম এবং আবেদনের ওয়েবসাইট প্রকাশ করেছে প্রশাসন। নাগরিকদের সুবিধার্থে আগামী ১৫, ১৬ এবং ১৭ জুন রাজ্যজুড়ে জনকল্যাণ শিবিরের আয়োজন করা হচ্ছে। এই শিবিরগুলোতে সাধারণ মানুষকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারসহ বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার উপায় এবং আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে। বিশেষ করে, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম পূরণে কোনো সমস্যা হলে সেখানে সরাসরি সহায়তা মিলবে।

অন্যদিকে, রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তুঙ্গে। শুভেন্দু অধিকারী স্বাস্থ্যসাথী এবং আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আয়ুষ্মান ভারতের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা বন্ধ হবে না। তবে তিনি এও স্পষ্ট করেছেন যে, ভোটার তালিকায় থাকা মৃত, অস্তিত্বহীন বা ভুয়ো ব্যক্তিদের নাম তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হবে। স্বাস্থ্যসাথী পরিষেবা যারা প্রকৃতই পাওয়ার যোগ্য, তাদের এনরোলমেন্টের প্রক্রিয়া ধীরস্থিরভাবে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

সব মিলিয়ে, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এবার আমলাদের ওপর চাপ বাড়াতে চলেছে। কাজ না করলে পদ থাকবে না—এই বার্তাটিই নবান্ন এবার ধ্রুবতারা করতে চাইছে। পাশাপাশি, জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলোকে তৃণমূল স্তরে সফল করতে প্রশাসনের এই তৎপরতা আগামী দিনে রাজ্যের মানুষের কাছে কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সরকারি কর্মীদের এই নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া মানেই প্রশাসনিক কাজের গতিপ্রকৃতিতে এক নতুন গতির সঞ্চার, যা রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy