আইফোন ১৭ কেনার কথা ভাবছেন? এই ভুল করবেন না! অর্ধেক দামে আইফোনের পাওয়ার পেতে পড়ুন এই গাইড

আইফোন ১৭ বাজারে আসার পর থেকেই উত্তাল প্রযুক্তি বিশ্ব। দাম ৮০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে পৌঁছেছে এই মডেলটি। কিন্তু অ্যাপলের অভিজ্ঞতা পেতে কি সত্যিই লক্ষাধিক টাকা খরচ করা প্রয়োজন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বুদ্ধি খাটিয়ে স্মার্ট বিনিয়োগ করলে ৩৫-৪০ হাজার টাকার মধ্যেই মিলছে এমন আইফোন, যা আইফোন ১৭-এর ৯০ শতাংশ কাজ অনায়াসেই করে দিতে পারে। রিল বানানো, গেমিং কিংবা সফটওয়্যার আপডেট—কোনো ক্ষেত্রেই পিছিয়ে নেই এই পুরনো মডেলগুলো। আজকের প্রতিবেদনে জেনে নিন ২০২৬ সালে কোন ৩টি আইফোন আপনার জন্য সেরা ‘ভ্যালু ফর মানি’ ডিল।

১. আইফোন ১৩: ভ্যালু ফর মানি কিং
এই মুহূর্তে আইফোনের জগতে সেরা ডিল হলো আইফোন ১৩। এতে রয়েছে A15 Bionic চিপ, যা আইফোন ১৪-এও ব্যবহৃত হয়েছে। ২০২৮ সাল পর্যন্ত এটি অনায়াসে iOS সাপোর্ট পাবে। ক্যামেরা বিভাগে রয়েছে সেন্সর-শিফট OIS, যা লো-লাইটেও দুর্দান্ত ছবি দেয়। নতুন কিনতে গেলে দাম কিছুটা বেশি হলেও, রিফাবরিশড মার্কেটে ৩৫ থেকে ৩৮ হাজার টাকায় এটি সেরা অপশন। যারা গেমিং এবং ক্যামেরার জন্য ৩-৪ বছর নিশ্চিন্ত থাকতে চান, তাদের জন্য আইফোন ১৩ এখনও ‘বিস্ট’।

২. আইফোন ১৪: প্রিমিয়াম লুক, বাজেট দাম
আইফোন ১৩-এর আপগ্রেডেড সংস্করণ হলো আইফোন ১৪। এতে ৬ জিবি র‍্যাম থাকায় মাল্টিটাস্কিং অনেক বেশি স্মুদ। এতে ক্র্যাশ ডিটেকশন এবং স্যাটেলাইট SOS-এর মতো সেফটি ফিচার রয়েছে। ক্যামেরায় ‘ফটোনিক ইঞ্জিন’ যুক্ত হওয়ায় লো-লাইটে এটি অনেক বেশি শার্প ছবি তোলে। বাজেট কিছুটা বেশি থাকলে এবং লেটেস্ট সেফটি ফিচার চাইলে নতুন মডেলে বিনিয়োগ না করে আইফোন ১৪ বেছে নিতে পারেন। রিফাবরিশড মার্কেটে এটি ৪২-৪৫ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

৩. আইফোন এসই (তৃতীয় প্রজন্ম): ২৫ হাজারে সুপার পাওয়ার
যারা কমপ্যাক্ট ফোন পছন্দ করেন এবং পারফরম্যান্স নিয়ে আপস করতে চান না, তাদের জন্য আইফোন এসই (৩য় প্রজন্ম) সেরা। এতেও রয়েছে শক্তিশালী A15 Bionic চিপ। যদিও এর ডিসপ্লে ছোট এবং একটি মাত্র ক্যামেরা, কিন্তু দৈনন্দিন কাজ, কলিং এবং হোয়াটসঅ্যাপের জন্য এটি আদর্শ। রিফাবরিশড মার্কেটে ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে এটি পাওয়া যাচ্ছে।

পুরনো আইফোন কেনার আগে ৫টি জরুরি চেকলিস্ট:

ব্যাটারি হেলথ: সেটিংস থেকে দেখে নিন ব্যাটারি হেলথ ৮৫ শতাংশের নিচে কি না। ৮৫-এর নিচে হলে দাম কমানোর চেষ্টা করুন।

ট্রু টোন ও ফেস আইডি: ডিসপ্লে পরিবর্তন করা থাকলে ট্রু টোন কাজ করে না। এছাড়া ফেস আইডি চেক করা বাধ্যতামূলক।

IMEI ভেরিফিকেশন: অ্যাপলের অফিসিয়াল সাইটে IMEI চেক করে নিশ্চিত হয়ে নিন ফোনটি চুরির কি না।

আইক্লাউড লক: ফোনের সেটিংস চেক করুন যাতে আগের কোনো আইডির লগইন না থাকে।

ওয়ারেন্টি: সবসময় Amazon Renewed বা অ্যাপল সার্টিফাইড রিফাবরিশড সাইট থেকে কেনার চেষ্টা করুন, যা ৬ মাসের ওয়ারেন্টি দেয়।

নতুন আইফোনের নেশায় অকারণে ৪০ হাজার টাকা নষ্ট না করে বুদ্ধির পরিচয় দিন। আইফোন ১৩ বা ১৪ এখনও বাজারের সেরা ফোনগুলোর মধ্যে একটি। আপনার পকেট বাঁচান এবং সঠিক স্মার্টফোন বেছে নিন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy