হাফিজ সাঈদের উত্তরসূরি কি ছেলে তালহা? লস্কর-ই-তৈবার নেতৃত্বে বড় রদবদলের ছক পাকিস্তানে!

সন্ত্রাসী সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার অন্দরে এখন এক বিশাল পরিবর্তনের হাওয়া। মূল নেতা হাফিজ সাঈদ আত্মগোপনে থাকায় সংগঠনের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কে দেবেন, তা নিয়ে পাকিস্তানে তুমুল জল্পনা চলছে। এই আলোচনার কেন্দ্রে এখন হাফিজ সাঈদের ছেলে তালহা সাঈদ। বাবার অনুপস্থিতিতে তালহা যেভাবে পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন, তা থেকেই স্পষ্ট যে লস্করের নতুন মুখ হিসেবে তাঁকেই গড়ে তোলা হচ্ছে। ২০১০ সালে লস্করে যোগ দেওয়া তালহা এতদিন মূলত প্রচারের দায়িত্ব সামলাতেন, কিন্তু এখন তিনি সংগঠনের মূল কৌশলী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পথে।

গত কয়েক দিনে তালহা সাঈদের তৎপরতা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কপালে ভাঁজ ফেলেছে। তিনি পিওকে থেকে লাহোর পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে একের পর এক বৈঠক করছেন। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, তালহা সাঈদের সঙ্গে পাকিস্তানের বর্তমান তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার, পরিকল্পনা মন্ত্রী আহসান ইকবাল এবং প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহর মতো হাইপ্রোফাইল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সাক্ষাৎ। এ ছাড়াও পাঞ্জাব বিধানসভার স্পিকার মালিক মুহাম্মদ আহমেদ খান এবং প্রাক্তন মন্ত্রী শেখ রশিদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক রাজনৈতিক মহলে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বৈঠকগুলো নিছক সৌজন্যমূলক নয়, বরং লস্করের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও নতুন কৌশল নির্ধারণের অংশ।

কেন এই ঘনিষ্ঠতা? পাকিস্তান সরকারের লস্করকে প্রয়োজনীয়তা নতুন কিছু নয়, তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটটি বেশ কৌশলী। স্থানীয় নির্বাচনে লস্করের ভোটব্যাংক এবং প্রভাবকে কাজে লাগাতে চাইছে পিএমএল-এন। বিশেষ করে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) আসন্ন নির্বাচনে লস্করের সক্রিয় অংশগ্রহণকে ব্যবহার করে কাশ্মীর ইস্যুকে পুনরায় আন্তর্জাতিক মহলে উসকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, লস্কর এখন পিওকে-তে নতুন সন্ত্রাসী ঘাঁটি স্থাপনের জন্য পিএমএল-এন সরকারের আড়ালে তহবিল সংগ্রহের কাজ চালাচ্ছে।

ভারতীয় গোয়েন্দাদের দাবি, লস্করের এই নতুন কৌশলের আসল লক্ষ্য হলো কাশ্মীর সীমান্তে অনুপ্রবেশ বৃদ্ধি করা। জম্মু ও কাশ্মীরে অস্থিরতা তৈরির জন্য ৩০০-রও বেশি প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসী সীমান্তে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে বলে খবর। লস্কর এখন এমন এক নতুন নেতৃত্বের দিকে এগোচ্ছে, যারা একই সঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতা ভোগ করবে এবং সীমান্তের ওপার থেকে নাশকতার ছক সাজাবে। তালহা সাঈদকে সামনে রেখে হাফিজ সাঈদ নিজেকে ‘আদর্শিক পথপ্রদর্শক’ হিসেবে রেখে সংগঠনের মূল নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতেই রাখতে পারেন। সব মিলিয়ে, পাকিস্তানের রাজনীতির অন্দরে লস্কর-ই-তৈবার এই নতুন ‘অবতার’ দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য নতুন বড় বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy