উত্তর প্রদেশের বেরেলি জেলায় শিক্ষা দপ্তরের একটি বিতর্কিত চিঠি ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জারি করা এই অদ্ভুত নির্দেশের জেরে বর্তমানে ক্ষোভে ফুঁসছেন রাজ্যের শিক্ষক সমাজ। নবাবগঞ্জ ব্লক শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে শিক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্কুলে শিশুদের পড়ানোর পাশাপাশি পথচারী গবাদি পশুর জন্য খড় সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করতে।
ঘটনার সূত্রপাত জেলা প্রশাসনের একটি বিশেষ অভিযানকে কেন্দ্র করে। জেলার সরকারি গোশালাগুলোতে অসহায় গবাদি পশুদের খাদ্যের জোগান দিতে প্রধান পশুচিকিৎসা কর্মকর্তা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগকে ১,৫০০ কুইন্টাল খড় সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন। এর জেরে বেরেলির ১৫ জন ব্লক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রত্যেককে ১০০ কুইন্টাল করে খড় সংগ্রহের দায় চাপানো হয়েছে। আর সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণের অংশ হিসেবে প্রতিটি স্কুলকে প্রায় ৪৬ কিলোগ্রাম করে খড় সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবাবগঞ্জ ব্লকের ভাইরাল হওয়া চিঠিতে আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, সময়মতো এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে সংশ্লিষ্ট স্কুলপ্রধানদের কৈফিয়ত দিতে হবে এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এই আদেশের পর থেকেই শিক্ষক সংগঠনগুলির মধ্যে চরম অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। শিক্ষক সত্যেন্দ্র পাল সিংয়ের মতো অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, একজন শিক্ষকের মূল কাজ যখন শিশুদের আলোকিত করা, তখন কেন তাঁদের খড় সংগ্রহের মতো অপ্রাসঙ্গিক কাজে নিযুক্ত করা হচ্ছে? শিক্ষকদের অভিযোগ, এমনিতেই রাজ্যের স্কুলগুলোতে তীব্র শিক্ষক সংকট রয়েছে। তার ওপর নির্বাচনী দায়িত্ব, আদমশুমারি, বিভিন্ন সমীক্ষা এবং পোর্টালের তথ্য আপলোড করার কাজের চাপে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের। এখন নতুন করে এই খড় সংগ্রহের দায় তাঁদের পঠনপাঠনের মূল্যবান সময় নষ্ট করছে।
যদিও মিরগঞ্জ ব্লকের শিক্ষা কর্মকর্তা অবনীশ কুমার দাবি করেছেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে শুধুমাত্র পশুদের সাহায্য করার মানসিকতা থেকে এই অনুরোধ করা হয়েছিল, এবং চিঠিতে শাস্তির কোনো সরাসরি হুমকি ছিল না, তবুও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া চিঠির বয়ান অন্য কথা বলছে। শিক্ষকদের একাংশের মতে, পড়াশোনার বাইরের সরকারি কাজের বোঝা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় গুণগত শিক্ষা প্রদান করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ছে। এই ঘটনা এখন প্রশাসনের অন্দরেও আলোচনার ঝড় তুলেছে, কারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের দিয়ে এ ধরনের অ-শিক্ষামূলক কাজ করানোর বিষয়টি নিয়ে রাজ্যজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।





