দেশের অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় বরাবরই প্রথম সারিতে থেকেছেন জওয়ানরা। তবে এবার সীমান্তে নিরাপত্তার প্রশ্নে পুরুষদের চেয়েও নারীশক্তির অবদানের কথা তুলে ধরে এক নজিরবিহীন মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর মতে, সীমান্ত এলাকায় দেশের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে মহিলাদের সক্রিয় ভূমিকা এবং অবদান বর্তমানে পুরুষদের ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
কেন এই মন্তব্য করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী? সম্প্রতি একটি উচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকে অমিত শাহ দেশের সীমান্ত সুরক্ষার নতুন রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করেন। সেখানেই তিনি উল্লেখ করেন যে, শুধুমাত্র অস্ত্র হাতে নয়, সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলোতে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে স্থানীয় জনতাকে সতর্ক করার ক্ষেত্রে মহিলারা এক অনন্য ভূমিকা পালন করছেন।
অমিত শাহের বক্তব্যের মূল দিকগুলি:
সতর্ক নজরদারি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে স্থানীয় মহিলারা এখন দেশের ‘প্রথম স্তরের রক্ষী’ হিসেবে কাজ করছেন। অনুপ্রবেশকারীদের গতিবিধি লক্ষ রাখা থেকে স্থানীয় প্রশাসনকে খবর দেওয়া—সবক্ষেত্রেই মহিলারা পুরুষের তুলনায় অধিক তৎপর।
সামাজিক সচেতনতা: সীমান্তে চোরাচালান এবং অনুপ্রবেশ রুখতে মহিলাদের সচেতনতা স্থানীয় সমাজকে আরও মজবুত করেছে।
নারীশক্তির জয়গান: কেন্দ্রীয় সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে এখন মহিলারা সীমান্তরক্ষী বাহিনীতেও (BSF) অত্যন্ত দক্ষ ও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছেন, যা দেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের।
অমিত শাহের এই মন্তব্য ভারতীয় রাজনীতিতে এবং সামাজিক পরিসরে নতুন করে নারীশক্তির জয়গানকে সামনে নিয়ে এল। সীমান্ত পাহারায় যেখানে এতদিন পুরুষদের আধিপত্যের কথা বেশি শোনা যেত, সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বয়ান বুঝিয়ে দিল— আগামীর ভারত সুরক্ষিত থাকবে এক নতুন নারীশক্তির হাতেই।
এখন দেখার বিষয়, এই মন্তব্যের পর সীমান্তবর্তী এলাকার সুরক্ষা ব্যবস্থায় মহিলাদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর জন্য নতুন কোনো বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় কি না।





