রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের প্রায় পনেরো দিন অতিক্রান্ত। বর্তমানে প্রশাসনিক কাজ সামলাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই ৪৪টি দফতরের গুরুদায়িত্ব নিজের কাঁধে রেখেছেন। পাশাপাশি অগ্নিমিত্রা পল, দিলীপ ঘোষ, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক এবং ক্ষুদিরাম টুডু—এই পাঁচ মন্ত্রীকে আপাতত একাধিক দফতরের দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। তবে নবান্ন সূত্রের খবর, খুব দ্রুতই মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ রূপ ঘোষণা করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। দিল্লি সফর ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার পর, আগামী ২৭ অথবা ২৮ মে (বুধ বা বৃহস্পতিবার) এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
দফতর বণ্টনে সম্ভাব্য রদবদল সূত্রের খবর, আপাতত যে পাঁচ মন্ত্রীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, নতুন দফতর বণ্টনের পর তাঁদের কাজের চাপ কমানো হবে।
অগ্নিমিত্রা পল: বর্তমানে নারী ও শিশুকল্যাণ এবং পুর ও নগরোন্নয়ন সামলাচ্ছেন তিনি। শোনা যাচ্ছে, নারী ও শিশুকল্যাণ দফতরের দায়িত্ব শ্যামপুকুরের বিধায়ক পূর্ণিমা চক্রবর্তী অথবা রত্না দেবনাথকে দেওয়া হতে পারে। তবে তাঁর কাজের দক্ষতায় সন্তুষ্ট হয়ে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের স্থায়ী মন্ত্রী হিসেবে তাঁকেই রাখা হতে পারে। সেক্ষেত্রে সজল ঘোষকে সমবায় বা ক্রেতা সুরক্ষার মতো দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
অর্জুন সিং: শোনা যাচ্ছে, নর্থ ব্যারাকপুরের বিধায়ক অর্জুন সিং পেতে পারেন পরিবহণ দফতরের দায়িত্ব। একসময় তৃণমূলের আমলে এই দফতরটি শুভেন্দু অধিকারীর হাতে থাকায়, এর গুরুত্ব নতুন সরকারের কাছেও যে অপরিসীম, তা পরিষ্কার।
স্বাস্থ্য ও স্বরাষ্ট্র: আরজি কর কাণ্ড এবং স্বাস্থ্য খাতের সামগ্রিক দুর্নীতি মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রী এই দুই দফতর আপাতত নিজের হাতেই রাখার সম্ভাবনা প্রবল। স্বাস্থ্য দফতরে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে বিধাননগরের বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে দেখা যেতে পারে।
শিক্ষা ও অন্যান্য: শিক্ষা দফতরের গুরুদায়িত্ব পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন স্বপন দাশগুপ্ত। ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতর নিশীথ প্রামাণিকের হাত থেকে সরে অশোক দিন্দার কাছে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের দায়িত্বে রুদ্রনীল ঘোষ এবং আইনমন্ত্রী হিসেবে তরুণজ্যোতি তিওয়ারি বা কৌস্তভ বাগচীর নাম জোরালোভাবে উঠে আসছে।
দিলীপ ঘোষের দায়িত্বে পরিবর্তন? বর্তমানে পঞ্চায়েত, গ্রামোন্নয়ন ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের পাশাপাশি দিলীপ ঘোষের হাতে থাকা কৃষি বিপণন দফতরটি অন্য কাউকে হস্তান্তরের কথা ভাবছে নেতৃত্ব।
পরিবর্তনের হাওয়া সব মিলিয়ে, নতুন মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ এবং তরুণ বিধায়কদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে প্রশাসনিক গতি বাড়াতে চাইছে সরকার। মন্ত্রিসভার এই রদবদল কেবল দফতর বণ্টন নয়, বরং নতুন সরকারের কাজের অগ্রাধিকার ও স্বচ্ছতার বার্তাও বহন করবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত। ২৭ কিংবা ২৮ মে’র ঘোষণার দিকেই এখন তাকিয়ে রাজ্যবাসী।





