প্রকৃতির ডাক উপেক্ষা করার মারাত্মক পরিণতি! মলত্যাগ আটকে রাখার খেসারত দিতে হতে পারে জীবন দিয়ে

ব্যস্ততা কিংবা নানা সামাজিক সংকোচবশত প্রকৃতির ডাক চেপে রাখা বা মলত্যাগের বেগ আটকে রাখার অভ্যাস আমাদের অনেকেরই রয়েছে। মিটিংয়ের ব্যস্ততা, দীর্ঘ পথযাত্রা কিংবা জনবহুল স্থানে টয়লেট ব্যবহারের অস্বস্তির কারণে অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মলত্যাগ না করে তা আটকে রাখেন। আপাতদৃষ্টিতে এই অভ্যাসটিকে খুবই সাধারণ বা ক্ষতিকর নয় বলে মনে হলেও, চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টদের মতে এটি মানবদেহের জন্য অত্যন্ত মারাত্মক ও প্রাণঘাতী একটি ভুল। আমাদের শরীর প্রতিদিন যে বর্জ্য পদার্থ উৎপন্ন করে, তা নির্দিষ্ট সময়ে বাইরে বের করে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। যদি নিয়মিত এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা হয়, তবে শরীরের ভেতরের জটিল অঙ্গগুলিতে এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
মলত্যাগ আটকে রাখার ফলে কোলন বা বৃহদন্ত্র থেকে অতিরিক্ত মাত্রায় জল শোষিত হতে থাকে, যার ফলে মল অত্যন্ত শক্ত, শুষ্ক ও পাথরের মতো কঠিন হয়ে যায়। এর প্রত্যক্ষ পরিণতি হিসেবে পরবর্তীতে কোষ্ঠকাঠিন্য (Constipation), মলদ্বারে তীব্র যন্ত্রণা, পাইলস বা অর্শ্বরোগ এবং অ্যানাল ফিশারের মতো যন্ত্রণাদায়ক সমস্যার সৃষ্টি হয়। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে মল আটকে রাখলে অন্ত্রের পেশিগুলির স্বাভাবিক সংকোচন ও প্রসারণ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। চরম ক্ষেত্রে কোলনের ওপর অতিরিক্ত চাপের ফলে অন্ত্রে ছিদ্র হয়ে যাওয়া বা ‘বোয়েল পারফোরেশন’-এর মতো জীবন সংশয়ী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যার জন্য জরুরি ভিত্তিতে জটিল অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে।
শারীরিক জটিলতা কেবল পরিপাকতন্ত্রেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এর প্রভাব পড়ে পুরো শরীরের মেটাবলিজম ও মানসিক অবস্থার ওপর। কোলনে জমে থাকা বর্জ্য পদার্থ থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বা বিষাক্ত উপাদান পুনরায় রক্তপ্রবাহে মিশে যেতে পারে, যার ফলে শরীরে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, বমি ভাব, ত্বকে নানা ধরনের সংক্রমণ এবং পেটে তীব্র অস্বস্তি দেখা দেয়। এছাড়া সারাক্ষণ পেটে ভারী ভাব থাকার কারণে কাজে মনোযোগ ব্যাহত হয় এবং মানসিক অবসাদ বৃদ্ধি পায়। তাই সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করতে প্রকৃতির ডাক শোনার সঙ্গে সঙ্গেই তা সাড়া দেওয়া উচিত এবং কোনোভাবেই অলসতা বা ব্যস্ততার অজুহাতে মলত্যাগ আটকে রাখা উচিত নয়।