ডায়মন্ডহারবার পুরসভায় পদত্যাগ ৮ তৃণমূল কাউন্সিলরের, কাঠগড়ায় ‘পুলিশি মডেল’

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরপরই বড়সড় ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ডায়মন্ডহারবার পুরসভায় এবার বড়সড় ভাঙন। সোমবার দুপুরে ডায়মন্ডহারবার পুরসভার ১৬ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ৮ জন একসঙ্গে মহকুমাশাসকের দফতরে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে রীতিমতো তোলপাড় পড়ে গিয়েছে।

কেন এই গণ-পদত্যাগ? ফলতা বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীর বিশাল জয়ের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই পদত্যাগের ঘটনা তাৎপর্যপূর্ণ। পদত্যাগকারী কাউন্সিলরদের অভিযোগ, এতদিন ডায়মন্ডহারবার পুরসভা জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা নয়, বরং পুলিশ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে চলত। সাত নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তমাল হালদারের কথায়, “এতদিন ‘ডায়মন্ডহারবার মডেল’-এর নামে একটা বেলুন ফুলিয়ে রাখা হয়েছিল, যা এখন ফুটো হয়ে গিয়েছে। আমাদের কোনো স্বাধীনতা ছিল না, পুলিশ আধিকারিকদের ইশারায় আমাদের উঠতে-বসতে হতো।”

দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ শুধু প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নয়, পুরসভার অন্দরে চলা কোটি কোটি টাকার তোলাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগও তুলেছেন কাউন্সিলররা। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অমিত সাহার অভিযোগ, “পুকুর ভরাট, অবৈধ নির্মাণ এবং তোলাবাজির পেছনে পুলিশের একাংশের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। মানুষের সামনে মুখ দেখানো দায় হয়ে পড়েছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি।” তাঁরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রয়োজনে দুর্নীতির তদন্তের মুখোমুখি হতেও প্রস্তুত তাঁরা।

আগামী দিনের সমীকরণ পদত্যাগকারী ৮ কাউন্সিলরের তালিকায় রয়েছেন তমাল হালদার, অমিত সাহা, দেবকী হালদার, মঞ্জু মণ্ডল, অলক হালদার, স্বপন দাস, মৃদুল হালদার এবং দিব্যেন্দু হালদার। তবে তাঁরা এখনই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, “আমরা চাই নতুন সরকার নতুন বোর্ড গঠন করুক, যাতে মানুষের কাজ করা সম্ভব হয়।”

বিজেপির প্রতিক্রিয়া এই ঘটনায় বিজেপি নেতৃত্ব সোচ্চার হয়েছে। ফলতা বিধানসভার জয়ী প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা এবং ডায়মন্ডহারবার কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দীপক কুমার হালদার সাফ জানিয়েছেন, দুর্নীতির তদন্ত হবেই এবং জড়িত কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না। রাজ্যে এখন আইনের শাসন কায়েম হয়েছে বলেই তাঁদের দাবি।

যদিও এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের এই ‘মডেল’ ভেঙে পড়া কেবল ডায়মন্ডহারবার নয়, পুরো দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক বড় পরিবর্তনের সংকেত।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy