‘কালই লোকসভায় কঠোর বিল পেশ!’ নিট কেলেঙ্কারির আবহে বড় ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী মোদীর

নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস এবং দেশজুড়ে চলা তীব্র ছাত্র আন্দোলনের জেরে প্রবল চাপের মুখে মোদী সরকার। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার (আগামীকাল) সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা সংক্রান্ত জালিয়াতি রোধে একটি অত্যন্ত কঠোর সংশোধনী বিল পেশ করতে চলেছে কেন্দ্র। তার ঠিক আগেই রবিবার এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে বড় ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর।
আসছে কঠোরতম আইন ও ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট
ভিডিও বার্তায় পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থায় কঠোর শৃঙ্খলা ফেরানোর কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশের ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলেছে, তাদের কাউকে রেয়াত করা হয়নি এবং অপরাধীরা এখন জেলের ঘানি টানছে। অপরাধীদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাতে সরকার ইতিমধ্যেই ‘ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট’ (Fast Track Court) গঠন করেছে।
সবচেয়ে বড় ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আগামীকালই আমরা সংসদে কঠোর আইনি বিধান-সহ নতুন বিল পেশ করে আরও কড়া আইন আনতে চলেছি।” সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, আসন্ন এই বিলে প্রধানত ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার মতো কঠোরতম শাস্তির সংস্থান থাকতে চলেছে। এমনকি ফাস্ট ট্র্যাক আদালতের মাধ্যমে মাত্র ৩ মাসের মধ্যে এই ধরনের মামলার শুনানি শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে হাই-পাওয়ার্ড টাস্ক ফোর্স
পরীক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত, ত্রুটিহীন ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলতে একটি বিশেষ ‘হাই-পাওয়ার্ড টাস্ক ফোর্স’ গঠনের ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। আর এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্যানেলের নেতৃত্বভার অর্পণ করা হয়েছে ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা তথা বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তিবিদ নন্দন নিলেকানির (Nandan Nilekani) হাতে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের ভবিষ্যতের কথা ভাবতে হবে। দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থা হতে হবে সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য, স্বচ্ছ এবং সর্বাধিক প্রযুক্তিনির্ভর। এই সমস্ত বিষয় মাথায় রেখেই টেক বিশেষজ্ঞ নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে একটি হাই-পাওয়ার্ড টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই টাস্কফোর্সের রিপোর্টের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতের পরীক্ষাগুলিকে আরও সুরক্ষিত ও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ করা হবে।”
সাম্প্রতিক এই ঘটনার জেরে রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলে চাঞ্চল্য তুঙ্গে রয়েছে এবং সোমবার সংসদের বাজেট অধিবেশনে এই বিল পেশকে কেন্দ্র করে বড়সড় রাজনৈতিক তরজার সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।