ইরানে হামলা থামাল আমেরিকা! ট্রাম্প প্রশাসনের এই বড় সিদ্ধান্তের পিছনে আসল কারণ কী?

গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ইরানের ওপর টানা বিমান হামলা চালিয়ে যাওয়ার পর এবার বড়সড় পদক্ষেপ করল আমেরিকা। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটানা ১৩ দিন তীব্র আক্রমণ চলার পর ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত বা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। যুদ্ধবিরতির এই আকস্মিক পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।

হামলা বন্ধের নেপথ্যে কী কী কারণ রয়েছে?

মার্কিন সূত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, এই যুদ্ধ থামানোর পিছনে মূলত দুটি প্রধান কারণ কাজ করেছে:

  • কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সুযোগ দেওয়া: হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চেউং জানিয়েছেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সর্বদা কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান চেয়েছেন। সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি আলোচনার পথ খোলা রাখতেই এই সাময়িক বিরতি।

  • মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমের ওপর বাড়তি চাপ: ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকার সামরিক কর্তারা আগেই হোয়াইট হাউসকে সতর্ক করেছিলেন যে আক্রমণ এভাবে চলতে থাকলে মার্কিন মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম ও প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের ভাণ্ডারে টান পড়তে পারে। বিগত কয়েক মাসে আমেরিকা ইতিমধ্যেই ১,২০০-রও বেশি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইল ব্যবহার করে ফেলেছে, যা বিশ্বজুড়ে মার্কিন সেনা ঘাঁটিগুলির নিরাপত্তায় বড় উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

আমেরিকার অবস্থান ও তেলের দামের প্রশ্ন

হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করে দিয়েছে যে প্রয়োজন পড়লে ভবিষ্যতে আবারও সামরিক পদক্ষেপ শুরু করা হতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে ইরান যদি তাদের গতিবিধি বাড়ায় বা আমেরিকার বন্ধু দেশগুলির ওপর আক্রমণ চালায়, তবে ওয়াশিংটন চুপ করে থাকবে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও মন্তব্য করেছেন যে ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতায় আসাটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমত্তার কাজ হবে।

এদিকে, এই আকস্মিক সামরিক বিরতির ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম কমবে কি না, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের গতিপ্রকৃতির ওপরই এখন গোটা বিশ্বের জ্বালানি বাজারের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।