দাসু প্রকল্পে হামলার পরেই বড় পদক্ষেপ! চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাকিস্তান গড়ছে বিশেষ কমান্ডো বাহিনী

পাকিস্তানে কর্মরত চীনা নাগরিক ও প্রকৌশলীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক নজিরবিহীন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে পাকিস্তান সরকার। দেশের প্রধান বাঁধ, বিদ্যুৎ এবং পানি প্রকল্পগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে একটি বিশেষ কমান্ডো বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামাবাদ। প্রস্তাবিত এই বাহিনীর নাম দেওয়া হয়েছে ‘ওয়াপদা নিরাপত্তা বাহিনী’ (WAPDA Security Force)। ইতিমধ্যেই এর খসড়া আইন ‘ওয়াপদা নিরাপত্তা বাহিনী আইন ২০২৬’ প্রস্তুত করা হয়েছে, যা শীঘ্রই পার্লামেন্টে উত্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক বছরে পাকিস্তানে চীনা নাগরিকদের ওপর ধারাবাহিক সন্ত্রাসী হামলা দেশটির অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ২০২১ সালের নভেম্বর এবং ২০২৪ সালের মার্চের দাসু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ হামলাগুলো চীন ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলেছে। ৬০০ কোটি ডলারের এই প্রকল্পটির সুরক্ষায় ব্যর্থতা নিয়ে বেইজিংয়ের চাপের মুখে পড়েছিল পাকিস্তান। ওই হামলায় বহু চীনা ও পাকিস্তানি প্রকৌশলী প্রাণ হারান, যার ফলে প্রকল্পটির কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে ক্ষতিপূরণ এবং সামরিক ধাঁচের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরই কাজ পুনরায় শুরু করা সম্ভব হয়।

কেন এই নতুন বাহিনীর প্রয়োজন পড়ল? এর নেপথ্যে রয়েছে নিরাপত্তা কাঠামোর সীমাবদ্ধতা। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিশেষ বিভাগ এতদিন শুধুমাত্র চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (CPEC) প্রকল্পের সুরক্ষায় নিয়োজিত ছিল। কিন্তু ওয়াপদার অধীনে থাকা অসংখ্য প্রকল্প এই নিরাপত্তা বলয়ের বাইরে ছিল। এখন প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, যেখানেই চীনা নাগরিকরা কর্মরত আছেন, সেখানেই সিপিসি-র সমতুল্য বা তার চেয়েও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখতে হবে।

নতুন এই বাহিনীর রূপরেখা অত্যন্ত শক্তিশালী। এর নেতৃত্বে থাকবেন সামরিক বাহিনী থেকে আসা একজন মহাপরিচালক। বাহিনীর নিজস্ব ইউনিফর্ম, ব্যাজ এবং পরিচয়পত্র থাকবে, যা তাদের আলাদা পরিচিতি দেবে। মোতায়েনের পর এই বাহিনী বাঁধ, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, যন্ত্রপাতি, কার্যালয় এবং কর্মীদের বাসস্থানের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। এমনকি চীনা প্রকৌশলী ও কর্মীদের ভ্রমণের সময়ও বিশেষ নিরাপত্তা বলয় প্রদান করা হবে। এটি স্থানীয় পুলিশ, রেঞ্জার্স এবং দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয় রেখে কাজ করবে।

প্রস্তাবিত আইনে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ধারা রয়েছে। খসড়া অনুযায়ী, বাহিনীর কর্মকর্তারা যদি কর্তব্যরত অবস্থায় আইন মেনে কাজ করেন, তবে তাদের বিচারিক প্রক্রিয়ায় আইনি সুরক্ষা দেওয়া হবে। পাকিস্তান সরকার আশা করছে, এই পদক্ষেপটি চীনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনবে এবং চলমান বড় প্রকল্পগুলোর সুরক্ষায় কোনো ফাঁকফোকর রাখবে না। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি, এই উদ্যোগ কেবল চীনের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কই উন্নত করবে না, বরং পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকেও সন্ত্রাসবাদীদের হাত থেকে রক্ষা করবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy