ইবোলা ভাইরাসের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে কার্যত বিপর্যস্ত ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদান। এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ভারত সরকার তার নাগরিকদের এই দেশগুলোতে সব ধরণের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার জন্য কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছে। একইসঙ্গে, বর্তমানে ওই তিন দেশে বসবাসরত ভারতীয়দের সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশাবলী অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে বলা হয়েছে।
ভারত সরকারের এই পদক্ষেপের মূল ভিত্তি হলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর সাম্প্রতিক ঘোষণা। WHO এবং ‘আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’-এর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিচার করে এই প্রাদুর্ভাবকে ‘আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ (PHEIC) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিধিমালা’ (IHR) অনুযায়ী, গত ১৭ মে থেকে এই জরুরি অবস্থা কার্যকর হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয় ভারত। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের তরফে সাফ জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং নাগরিকদের নিরাপত্তার খাতিরেই এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশেষভাবে ‘বুন্দিবুগিও’ (Bundibugyo) ভাইরাসের বিস্তার রোধে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে। গত ২২ মে জারি করা নতুন গাইডলাইনে WHO আন্তর্জাতিক সীমান্ত চৌকিগুলোতে নজরদারি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ করে যেসব যাত্রী আক্রান্ত এলাকা থেকে আসছেন, তাঁদের শারীরিক অবস্থার ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখতে বলা হয়েছে। কারণ ভাইরাসের উপসর্গগুলো শুরুতে সাধারণ জ্বরের মতো মনে হলেও পরবর্তীকালে তা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ভারত তার বিমানবন্দরগুলোতে নজরদারি ব্যবস্থা ঢেলে সাজিয়েছে। ভারতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে সতর্কতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে আক্রান্ত অঞ্চল থেকে আসা যাত্রীদের প্রতিটি খুঁটিনাটি পরীক্ষা করা হয়। বিশেষ করে জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, বমি, ডায়রিয়া, অকারণ রক্তপাত, পেশিতে তীব্র ব্যথা এবং অতিরিক্ত ক্লান্তির মতো উপসর্গগুলো দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে অবিলম্বে পৃথক করে প্রয়োজনীয় মেডিকেল স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আনা হচ্ছে। প্রয়োজনে বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে ওই যাত্রীদের ‘থার্মাল স্ক্রিনিং’ ও অতিরিক্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে, সংক্রমণ রুখতে কঠোর পদক্ষেপ ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। নাগরিকদের আতঙ্কিত না হয়ে বরং সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক। পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই কড়া নজরদারি ও সতর্কতা বহাল থাকবে। যারা এই মুহূর্তে আক্রান্ত অঞ্চলে রয়েছেন, তাঁদের জন্য বিশেষ হেল্পলাইন ও স্থানীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।





