অস্বস্তিকর গরমে নাজেহাল বাংলা! আলিপুর আবহাওয়া দফতরের বড় পূর্বাভাসে কি মিলবে স্বস্তি?

দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে গত কয়েকদিন ধরে চলা আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিকর গরম জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বিশেষ করে পশ্চিমের জেলাগুলোতে খরতাপের প্রভাব কিছুটা বেশি অনুভূত হচ্ছে। সাধারণ মানুষ হাঁসফাঁস করছে ভ্যাপসা গরমে। তবে আবহাওয়া অফিস কিছুটা আশার বাণী শুনিয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে কোনো নজির তৈরি হয়নি, কারণ পারদ এখন স্বাভাবিকের আশপাশেই ঘোরাফেরা করছে। তবে এই অস্বস্তি কাটিয়ে স্বস্তির বৃষ্টির অপেক্ষায় এখন রাজ্যবাসী।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের আবহবিদ অন্বেষা ভট্টাচার্য শনিবার রাতে জানিয়েছেন যে, আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি পর্যন্ত রাজ্যে বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি বজায় থাকবে। দক্ষিণ বিহার ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলে তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্ত এবং বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প রাজ্যে প্রবেশ করার ফলেই উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আগামী কয়েকদিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে।
উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস। আগামী ২৫ মে থেকে ২৭ মে পর্যন্ত উত্তরের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলাগুলোতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ২৮ ও ২৯ মে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় মাঝারি বৃষ্টির ধারা বজায় থাকবে।
অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। আগামী ২৬ মে মঙ্গলবার পর্যন্ত পশ্চিমের জেলাগুলোতে গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে। তবে ২৭ মে থেকে দক্ষিণবঙ্গেও বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে শুরু করবে। ২৮ ও ২৯ মে দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলাতেই মাঝারি বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি বজ্রপাত এবং ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আজ রবিবার মুর্শিদাবাদ, বীরভূম এবং দুই মেদিনীপুরে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শনিবার কলকাতার তাপমাত্রা ছিল ৩৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ০.২ ডিগ্রি বেশি। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৯.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ ডিগ্রি বেশি। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার আধিক্যই মূলত এই অস্বস্তির প্রধান কারণ। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৯১ শতাংশ ও সর্বনিম্ন ৬৪ শতাংশ থাকায় ঘাম আর গরম মিলে নাজেহাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহের শেষভাগে বৃষ্টির দাপট বাড়লে তাপমাত্রার পারদ অনেকটাই নিচে নামবে। ফলে ভ্যাপসা গরমের হাত থেকে রাজ্যবাসী কিছুটা রেহাই পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় বজ্রপাতের সময় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে হাওয়া অফিস।