‘ভাইপোর ভরসায় লড়েছিলেন, এখন পুষ্পা পগারপার’-কেন রণে ভঙ্গ দিলেন জাহাঙ্গির খান?

আগামী ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে হাইভোল্টেজ পুনর্নির্বাচন। কিন্তু ভোটের ঠিক দু’দিন আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে ঘটল এক নজিরবিহীন নাটকীয় পটপরিবর্তন! মঙ্গলবার আচমকাই সাংবাদিক বৈঠক করে নির্বাচন থেকে পিছু হঠার পাশাপাশি সক্রিয় রাজনীতি থেকে চিরতরে বিদায় নেওয়ার ঘোষণা করলেন তথাকথিত ‘পুষ্পা’ খ্যাত তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান।

ঠিক এই আবহেই মঙ্গলবার ফলতার মাটিতে দাঁড়িয়ে মেগা রোড শো করে বিজেপির শক্তির দাপট দেখালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকেই নাম না করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানান তিনি।

‘ভাইপোর ভরসায় লড়েছিলেন, এখন পুষ্পা পগারপার’: শুভেন্দু

ফলতার জনসভা থেকে জাহাঙ্গির খানকে খোঁচা দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন:

“পুষ্পা বলেছিলেন ঝুঁকেগা নেহি। ভাইপোর ভরসায় লড়েছিলেন। তিনি এখন এমন ঝুঁকে পড়েছেন যে বলছেন ‘আমি সরে গেলাম’। সরিয়ে তো আপনাকে দিতই মানুষ ২১ তারিখ। আপনি তো পোলিং এজেন্টই পেতেন না। গাছে তুলেছিলেন মাননীয় ভাইপো। এখন ভাইপোবাবুর দেখা নেই। পুষ্পা আজ বলছে ‘আমি পগারপার’। নির্বাচনে লড়ছেই না।”

একই সাথে তিনি ফলতাবাসীকে তৃণমূলের কোনো “গোপন কৌশলে” পা না দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “এটা তৃণমূলের চাল, যাতে আপনারা ভাবেন জিতে তো গেছি, ভোট না দিলেও চলবে। ১০ বছর পর ভোট দেওয়ার স্বাদ পেয়েছেন, তাই ১০০ শতাংশ ভোট চাই। পদ্মফুলের ৩ নম্বর বোতাম চিপে ভোট দিন। ২৪ মের পর আমাদের সরকার আসবে— হাতে কাজ দেবে, পেটে ভাত দেবে, মাথায় ছাদ দেবে। ফলতাকে নতুন করে দেবাংশুর নেতৃত্বে সাজিয়ে দেবো আমরা।”

কেন হঠাৎ রণে ভঙ্গ দিলেন ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির?

মঙ্গলবারই ছিল ফলতা কেন্দ্রের নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিন। কিন্তু প্রচারের শেষ লগ্নে এসে জাহাঙ্গির খানের এই সিদ্ধান্ত সবাইকে চমকে দিয়েছে। নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই দিয়ে জাহাঙ্গির বলেন, “আমি ফলতার সাধারণ মানুষের শান্তি রক্ষার জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব না। আমাদের রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফলতাকে বিশেষ প্যাকেজ দেবেন বলে জানিয়েছেন। আমি চাই ফলতার উন্নয়ন হোক, শান্তি থাকুক, সোনার ফলতা তৈরি হোক। তাই আমি সরে দাঁড়িয়েছি। রাজনীতির সঙ্গে আর কোনও যোগ রাখতে চাই না। এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত।”

‘সিংঘম’ বনাম ‘পুষ্পা’র সেই পুরোনো লড়াই

প্রসঙ্গত, গত ২৯ এপ্রিল ফলতায় প্রথম দফার নির্বাচন ছিল। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করানোর জন্য সেখানে বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল উত্তরপ্রদেশের এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট আইপিএস অজয় পাল শর্মাকে, যাঁকে সংবাদমাধ্যম ‘সিংঘম’ আখ্যা দিয়েছিল। অভিযোগ উঠেছিল, এই আইপিএস অফিসার জাহাঙ্গিরের পাড়ায় গিয়ে তাঁকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তারই পালটা দিয়ে জাহাঙ্গির খান নিজেকে ‘পুষ্পা’ দাবি করে বলেছিলেন, “দিল্লির কোনও শক্তির কাছে মাথা নত করব না, ঝুঁকেগা নেহি।”

তবে ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে সেই ‘পুষ্পা’র আচমকা রণক্ষেত্র ছেড়ে পলায়ন এবং রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নেওয়ার ঘটনা এখন বাংলার রাজনীতির সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy