পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক বদল আনল রাজ্য সরকার। স্কুল শিক্ষা দফতরের অধীনে থাকা রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও সরকার পোষিত বিদ্যালয়ে পঠনপাঠন শুরু হওয়ার আগে অর্থাৎ প্রাতঃকালীন প্রার্থনায় (School Assembly) ভারতের জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া তাৎক্ষণিকভাবে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশিকার ছবি পোস্ট করে বিষয়টি জনসমক্ষে আনেন।
বাতিল আগের প্রথা, ফিরছে জাতীয় চেতনা
রাজ্য সরকারের অতিরিক্ত মুখ্য সচিবের জারি করা ওই নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আগেকার যাবতীয় প্রথা ও নির্দেশিকা বাতিল করা হলো। এতদিন পশ্চিমবঙ্গের স্কুলগুলোতে জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি রাজ্য সঙ্গীত হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বাংলার মাটি, বাংলার জল’ গাওয়ার চল ছিল। ২০২৩ সালে তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এটিকে রাজ্য সঙ্গীত ঘোষণা করেছিল। তবে নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে জাতীয় সঙ্গীতের পর ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকারি স্কুলগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি স্কুলগুলোর কাছেও এই জাতীয় গানটিকে প্রার্থনা সঙ্গীত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানিয়েছেন।
স্বাগত জানালেন সুকান্ত মজুমদার
রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “বন্দে মাতরম আমাদের জাতীয় চেতনা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক। শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম ও ঐক্যবোধ জাগ্রত করতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।” তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, এর ফলে নতুন প্রজন্মের মনে ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি গর্ব আরও সুদৃঢ় হবে।
বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কেন্দ্র সরকার ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ‘বন্দে মাতরম’ গানের ১৫০ বছর উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই আবহে পশ্চিমবঙ্গের এই নতুন নির্দেশিকা জাতীয় স্তরেও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
ইতিমধ্যেই স্কুল শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে জেলা স্তরে এবং স্কুলে স্কুলে এই নির্দেশিকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আজকের এই নির্দেশিকা প্রকাশের মুহূর্ত থেকেই তা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে আগামিকাল থেকেই রাজ্যের স্কুলগুলোতে প্রার্থনা সভার চেনা ছবিটা বদলে যেতে চলেছে।
তথ্যসূত্র: ডেইলিহান্ট নিউজ ডেস্ক





