পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই ঝোড়ো ব্যাটিং শুরু করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। ক্ষমতা গ্রহণের পরেই প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল এবং কড়া দাওয়াইয়ের বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। এবার সেই নির্দেশের বাস্তবায়ন শুরু হল। নবান্ন সূত্রের খবর, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং হিংসার রাজনীতি চিরতরে বন্ধ করতে গোটা রাজ্য জুড়ে ‘বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার’ অভিযান চালানোর মেগা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।
গত সোমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকেই তিনি পুলিশকে ‘হাত খুলে’ কাজ করার স্বাধীনতা দেওয়ার পাশাপাশি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন যে, রাজ্যে কোনোভাবেই গুণ্ডাগিরি বা বেআইনি অস্ত্রের আস্ফালন বরদাস্ত করা হবে না। এবার সেই বার্তার রেশ ধরেই পুলিশের শীর্ষস্তর থেকে রাজ্যের প্রতিটি থানায় পৌঁছে গিয়েছে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা।
পুলিশ সূত্রে খবর, আগামী শনিবার থেকেই গোটা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে শুরু হচ্ছে এক ব্যাপক তল্লাশি অভিযান। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো রাজ্যের প্রতিটি কোণ থেকে বেআইনি বন্দুক, বোমা এবং কার্তুজ উদ্ধার করা। শুধুমাত্র অভিযান চালালেই হবে না, প্রতিদিন কোথায় কোথায় তল্লাশি চালানো হলো এবং কী কী অস্ত্র উদ্ধার হলো, তার বিস্তারিত রিপোর্ট প্রতিদিন শীর্ষস্তরে পাঠাতে হবে। এখানেই শেষ নয়, আগামী ১৫ মে-র মধ্যে প্রতিটি থানাকে তাদের মালখানায় মজুত অস্ত্র ও গোলা-বারুদের হিসেব মিলিয়ে একটি চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রেজিস্ট্রার খাতার সঙ্গে বাস্তব মজুতের মিল আছে কি না, তাও খুঁটিয়ে দেখা হবে।
পাশাপাশি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসার ঘটনাগুলি নিয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সময় পুলিশের দেওয়া রিপোর্টগুলি পুনরায় খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে পুরনো মামলাগুলির পুনর্তদন্ত শুরু করবে পুলিশ। এর পাশাপাশি নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও পুলিশকে নির্ভয়ে কাজ করার সাহস জুগিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “থানায় অভিযোগ জানাতে এলে এফআইআর নেওয়া হবে না—এমন দিন আর নেই। সবাই শিরদাঁড়া সোজা করে কাজ করুন।” রাজ্য সরকারের এই কড়া মনোভাব স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, বাংলায় অপরাধ দমনে এবার জিরো টলারেন্স নীতি নিতে চলেছে শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভা।





