বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এ এক নজিরবিহীন দৃশ্য। বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর যখন রাজ্যজুড়ে প্রতিহিংসার রাজনীতির আশঙ্কা করা হচ্ছিল, ঠিক তখনই পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাল হয়ে দাঁড়াল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা, পার্টি অফিস দখল বা তোলাবাজির মতো ঘটনা রুখতে এবার সরাসরি ময়দানে নেমেছেন সঙ্ঘের স্বয়ংসেবকরা।
সঙ্ঘের একাধিক সূত্রের দাবি, নির্বাচনের পর রাজ্যে আইনের শাসন বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক হানাহানি বন্ধ করাই এখন তাঁদের মূল লক্ষ্য। আরএসএস-এর তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বাংলায় যেন নতুন করে দখলদারি বা লুটপাটের সংস্কৃতি শুরু না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখছেন তাঁরা।
তৃণমূল কর্মীদের আইনি সহায়তার আশ্বাস সঙ্ঘের সঙ্ঘের পূর্ব ক্ষেত্র প্রচার প্রমুখ জিষ্ণু বসু সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অশান্তির অভিযোগ এলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমাদের স্বয়ংসেবকরা স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছেন। তৃণমূল নেতারাও যদি হিংসার শিকার হন, তবে তাঁদেরও আইনি সহায়তা দিতে আমরা প্রস্তুত।”
তিনি আরও একটি চাঞ্চল্যকর উদাহরণ দিয়ে জানান, সম্প্রতি সল্টলেকে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ একটি ক্লাব দখলের চেষ্টা হয়েছিল। সেখানে বিজেপির পতাকাও লাগানো হয়। খবর পাওয়া মাত্রই জিষ্ণু বসু নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে সেই পতাকা সরিয়ে ক্লাবটিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনেন।
জেলায় জেলায় কড়া নজরদারি শুধু কলকাতা নয়, উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাত-সহ বিভিন্ন জেলাতেও সঙ্ঘের কর্মীরা সক্রিয়। জানা গিয়েছে, বারাসাতের এক তৃণমূল নেতা হামলার আশঙ্কা করে খোদ আরএসএস নেতাদের সাহায্য চেয়েছেন। সঙ্ঘের স্পষ্ট বার্তা—ক্ষমতা পরিবর্তন মানেই প্রতিহিংসা নয়, বরং রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
বিজেপির সাফাই ও রাহুল সিনহার মন্তব্য এদিকে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, অতীতে তাঁদের ৩০০-র বেশি কর্মী রাজনৈতিক হিংসার বলি হয়েছেন। সেই ক্ষোভ থাকলেও তাঁরা শান্তির পথ থেকে সরছেন না। রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা বলেন, “আমরা যদি আমাদের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে না রাখতাম, তবে আরও বড় ঘটনা ঘটতে পারত। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না।”
তবে বিজেপির অভিযোগ, অনেক জায়গায় তৃণমূলের কর্মীরাই বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে ভাঙচুর ও দখলদারির ঘটনা ঘটাচ্ছে যাতে গেরুয়া শিবিরের বদনাম হয়। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও একই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের পর বাংলার তপ্ত রাজনীতিতে শান্তি ফেরাতে আরএসএস-এর এই সক্রিয় ভূমিকা এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।





