“রুপোলি পর্দা থেকে নবান্ন”-বিজয়ী বিজেপি তারকাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কত? জানলে অবাক হবেন!

৪ মে বাংলার রাজনীতির মানচিত্রে ঘটে গিয়েছে এক ঐতিহাসিক বদল। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে নবান্নের দখল নিয়েছে বিজেপি। ২৯৪ আসনের লড়াই শেষে বিজয়ী বিধায়করা এখন কাজ শুরু করেছেন নতুন উদ্যমে। তবে বিধানসভার অলিন্দে পা রাখা এই বিধায়কদের মধ্যে এবার উজ্জ্বল উপস্থিতি টালিগঞ্জের একঝাঁক তারকার।

মানুষের প্রিয় নায়ক-নায়িকারা যখন রাজনীতির ময়দানে নামেন, তখন তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহল কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কতদূর, তা নিয়ে চলে বিস্তর চর্চা। নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, দেখে নেওয়া যাক বাংলার নতুন ‘স্টার’ বিধায়কদের পড়াশোনা কতদূর?

হিরণ চট্টোপাধ্যায় (শ্যামপুর): শ্যামপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে এবার তাক লাগিয়ে দিয়েছেন হিরণ। অভিনয়ের পাশাপাশি পড়াশোনাতেও তিনি বেশ মেধাবী। হলফনামা অনুযায়ী, ১৯৯৮ সালে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতক (B.A. Honours) ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি।

রুদ্রনীল ঘোষ (শিবপুর): শিবপুরের এই নতুন বিধায়ক রাজনীতির ময়দানে যেমন তুখোড় বক্তা, তেমনই বিজ্ঞানের ছাত্র। ১৯৯৪ সালে হাওড়ার নরসিংহ দত্ত কলেজ থেকে স্নাতক (B.Sc) ডিগ্রি লাভ করেন অভিনেতা রুদ্রনীল।

রূপা গঙ্গোপাধ্যায় (সোনারপুর দক্ষিণ): বাংলার ‘দ্রৌপদী’ এবার সোনারপুর দক্ষিণের বিধায়ক। ১৯৮৬ সালে কলকাতার বিখ্যাত যোগমায়া দেবী কলেজ থেকে বিজ্ঞানে স্নাতক (B.Sc) ডিগ্রি সম্পূর্ণ করেছেন তিনি।

পাপিয়া অধিকারী (টালিগঞ্জ): টালিগঞ্জ কেন্দ্রে জয়ী হয়ে বিধানসভায় কামব্যাক করেছেন পাপিয়া অধিকারী। শিক্ষাগত যোগ্যতার নিরিখে তিনি অনেকটাই এগিয়ে। ১৯৮৬ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘তুলনামূলক সাহিত্য’ বা কম্পারেটিভ লিটারেচারে স্নাতকোত্তর (M.A) পাশ করেছেন তিনি।

অগ্নিমিত্রা পাল (আসানসোল দক্ষিণ): রাজ্যের বর্তমান নারী ও শিশুকল্যাণ উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল রাজনীতির আগে ফ্যাশন দুনিয়ায় ছিলেন আইকন। তাঁর পড়াশোনাও বেশ নজরকাড়া। ১৯৯৪ সালে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আসানসোলের বনওয়ারিলাল ভালোটিয়া কলেজ থেকে বি.এসসি (B.Sc) পাশ করেন। এরপর ১৯৯৭ সালে বিড়লা ইনস্টিটিউট অফ লিবারেল আর্টস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সায়েন্স থেকে ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে ডিপ্লোমা করেন তিনি।

শর্বরী মুখোপাধ্যায় (যাদবপুর): যাদবপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন শর্বরী মুখোপাধ্যায়। হলফনামা জানাচ্ছে, ১৯৯১ সালে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি কলাবিভাগে স্নাতক (B.A) ডিগ্রি লাভ করেছেন।

বাংলার এই নতুন সরকারে যেমন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদরা রয়েছেন, তেমনই শিক্ষাগত দিক থেকে উজ্জ্বল এই তারকাদের উপস্থিতি প্রশাসনের কাজকর্মে কতটা নতুনত্ব আনে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যবাসী।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy