৩৫,০০০ কোটি টাকার মেগা প্রজেক্টে আর বাধা নেই? বারাণসী-কলকাতা রোডে বড় সিদ্ধান্ত!

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হতেই কি এবার পাল্টে যাচ্ছে রাজ্যের উন্নয়নের গতিপথ? বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে দীর্ঘদিনের থমকে থাকা প্রকল্পগুলি প্রাণ ফিরে পেতে শুরু করেছে। যার মধ্যে সবথেকে বেশি চর্চা শুরু হয়েছে মোদী সরকারের স্বপ্নের প্রকল্প ‘বারাণসী-কলকাতা এক্সপ্রেসওয়ে’ নিয়ে। প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে ৩৫,০০০ কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্প এখন দ্রুত বাস্তবায়নের পথে।

কমবে সময়, বদলে যাবে যাতায়াত ৬১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ছয় লেনের গ্রিনফিল্ড এক্সপ্রেসওয়েটি ‘কাশী-বেঙ্গল এক্সপ্রেসওয়ে’ নামেও পরিচিত। বর্তমানে বারাণসী থেকে সড়কপথে কলকাতা পৌঁছাতে প্রায় ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা সময় লাগে। কিন্তু এই এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে সেই সময় কমে দাঁড়াবে মাত্র ৬ থেকে ৭ ঘণ্টায়। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গ—এই চার রাজ্যের সেতুবন্ধন ঘটাবে এই অর্থনৈতিক করিডোর।

জট কাটিয়ে সবুজ সঙ্কেত এতদিন ভূমি অধিগ্রহণ এবং পরিবেশগত ছাড়পত্রের অভাবে বাংলায় এই প্রকল্পের গতি ছিল অত্যন্ত ধীর। তবে সাম্প্রতিক খবর অনুযায়ী, পরিবেশ মন্ত্রকের বিশেষজ্ঞ কমিটি ইতিমধ্যেই ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ২০০ কিলোমিটার অংশের জন্য অনুমোদন দিয়ে দিয়েছে। যদিও পশ্চিমবঙ্গে এখনও প্রায় ১০৩ হেক্টর বনভূমি সংক্রান্ত কিছু ছাড়পত্র বাকি রয়েছে, তবে বর্তমান রাজ্য সরকারের সক্রিয়তায় সেই জট দ্রুত কেটে যাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

বাংলার কোন কোন জেলা দিয়ে যাবে এই পথ? পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক মানচিত্র বদলে দিতে পারে এই এক্সপ্রেসওয়ে। এটি রাজ্যের পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, হুগলি এবং হাওড়া জেলার ওপর দিয়ে যাবে। বনাঞ্চল এবং বন্যপ্রাণীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে রাস্তার বিভিন্ন অংশে বিশেষ ‘আন্ডারপাস’ তৈরির পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ অংশে ইতিমধ্যেই ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে, বিহার ও ঝাড়খণ্ডেও কাজ এগোচ্ছে দ্রুত গতিতে।

২০২৮-এর লক্ষ্যমাত্রা ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। কেন্দ্রীয় সরকারের লক্ষ্য, ২০২৮ সালের মার্চের মধ্যে এই ছয় লেনের রাস্তা সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া। বারাণসী, গয়া, রাঁচি ও কলকাতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শহরগুলি এই সুতোর মালায় গাঁথা পড়লে ভারতের পূর্ব প্রান্তের অর্থনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নবান্নে নতুন সরকার আসার পর যেভাবে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের ছবি ধরা পড়ছে, তাতে বারাণসী-কলকাতা এক্সপ্রেসওয়ের কাজ সময়ের আগেই শেষ হওয়া এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy