পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ায় ফের বড়সড় নাশকতার ঘটনা ঘটল। মঙ্গলবার এক ব্যস্ত বাজারের কাছে ভয়াবহ গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ২ জন পুলিশ আধিকারিক এবং ৫ জন সাধারণ নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার নৃশংসতায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
রেলগেটের কাছেই নরক গুলজার পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, খাইবার পাখতুনখোয়ার লাক্কি মারওয়াত জেলার সরাই নৌরং শহরের একটি ব্যস্ত বাজারের কাছে এই বিস্ফোরণটি ঘটে। একটি রেল ক্রসিংয়ের সামনে বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে হামলা চালায় জঙ্গিরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে আশেপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন প্রাণ হারান।
তদন্তে নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনার পরপরই গোটা এলাকা ঘিরে ফেলেছে পাক নিরাপত্তা বাহিনী। উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালগুলোতে স্থানান্তরিত করেছে। বিস্ফোরণটি আত্মঘাতী হামলা নাকি রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে ঘটানো হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার ধরন দেখে দায়ীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই পাকিস্তানের এই সীমান্ত অঞ্চলে নাশকতামূলক কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত শনিবারও বান্নু জেলার ফতেহখেল পুলিশ স্টেশনে একটি আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত তিনজন পুলিশকর্মী নিহত হয়েছিলেন। মঙ্গলবারের এই ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। খাইবার পাখতুনখোয়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন তীব্র ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এই মূহূর্তে গোটা এলাকা সেনা ও পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নতুন করে কোনও হামলা রুখতে জারি করা হয়েছে উচ্চ সতর্কতা।





