রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতা দখলের পর থেকেই সীমান্ত সুরক্ষায় নজিরবিহীন তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এবার আলিপুরদুয়ার সীমান্তে বড়সড় সাফল্য পেল সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (BSF)। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে ৭ জন বাংলাদেশি নাগরিক এবং একজন ভারতীয় দালালকে হাতেনাতে গ্রেফতার করল ১৭৪তম ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা। ধৃত ভারতীয় দালালের নাম সুশীল শীল বলে জানা গেছে।
অপারেশন ‘ধাপারাহাট’ বিএসএফ সূত্রে খবর, জলপাইগুড়ি রিজিওনাল হেডকোয়ার্টারের ডিআইজি শ্রী পবন কুমার পঙ্কজের নেতৃত্বে এবং ১৭৪তম ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ ধাপারাহাট সীমান্ত চৌকির জওয়ানরা এই অভিযানটি পরিচালনা করেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। সেই ফাঁদেই পা দেয় অনুপ্রবেশকারীরা।
কেরালা থেকে বর্ডার— ইদের ছক বানচাল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বিএসএফ জানিয়েছে, ধৃত ৭ বাংলাদেশি নাগরিক কেরালার বিভিন্ন প্রান্তে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ইদ উদযাপনের জন্য তারা অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। পরিকল্পনা ছিল, উৎসব শেষে আবার একই পথে চোরাপথে ভারতে প্রবেশ করবে তারা। কিন্তু সেই ছক বানচাল করে দেয় বিএসএফ। ধৃতদের আটক করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য কুচলিবাড়ি থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
অ্যাকশন মুডে নবান্ন উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই অনুপ্রবেশ ইস্যুতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে অনুপ্রবেশ রুখতে বিএসএফ-কে সবরকম সহযোগিতা করা হবে। সেই লক্ষ্যেই সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ ছিল, পূর্বতন তৃণমূল সরকার অনুপ্রবেশকারীদের মদত দিতেই এতদিন বিএসএফ-কে জমি দেয়নি। তবে তাঁর সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের প্রধান সচিব এবং মুখ্য সচিবকে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার দায়িত্ব দিয়েছেন। নবান্নের এই কড়া বার্তার পরেই সীমান্তে বিএসএফ-এর এই ধরপাকড় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
সীমান্তে চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ রুখতে গোয়েন্দা ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়মিত কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএসএফ। এই গ্রেফতারির ঘটনাটি অনুপ্রবেশকারীদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।





