সাঁওতালি ভাষায় শপথ নিলেন রানিবাঁধের বিধায়ক! শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেলেন আর কারা?

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে যোগ হলো এক নতুন অধ্যায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে শনিবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। স্বাধীনতার পর এই প্রথম রাজ্যের প্রশাসনিক ক্ষমতা দখল করল ভারতীয় জনতা পার্টি। ২০৭টি আসনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে এবার মহাকরণ (নবান্ন) পরিচালনার দায়িত্ব নিলেন পদ্ম শিবিরের সৈনিকরা।

শপথ গ্রহণ

শনিবার আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল আরএন রবি নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে শপথবাক্য পাঠ করান। সংবিধানের মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে বাংলার নতুন প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তিনি। এরপর একে একে শপথ নেন মন্ত্রিসভার অন্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা।

মন্ত্রিসভায় বড় মুখ কারা?

শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে গঠিত এই নতুন মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ এবং লড়াকু নেতাদের সমন্বয় দেখা গিয়েছে। প্রাথমিক তালিকায় আজ যাঁরা মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তাঁরা হলেন:

  • দিলীপ ঘোষ: খড়্গপুর সদরের হেভিওয়েট বিধায়ক তথা দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি।

  • অগ্নিমিত্রা পল: আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক, যিনি দলের মহিলা মুখ হিসেবে অত্যন্ত পরিচিত।

  • অশোক কীর্তনিয়া: বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক, মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় যাঁর বিশেষ প্রভাব রয়েছে।

  • নিশীথ প্রামাণিক: মাথাভাঙার বিধায়ক, যিনি উত্তরবঙ্গের রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।

  • ক্ষুদিরাম টুডু: বাঁকুড়ার রানিবাঁধের বিধায়ক।

সাঁওতালি ভাষায় শপথ ও আদিবাসী আবেগ

এ দিনের অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন রানিবাঁধের বিধায়ক ক্ষুদিরাম টুডু। তিনি সম্পূর্ণ সাঁওতালি ভাষায় তাঁর শপথবাক্য পাঠ করেন। বিজেপির এই পদক্ষেপ আদিবাসী জনজাতিদের প্রতি বিশেষ সম্মান প্রদর্শন হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

দপ্তর বণ্টন নিয়ে জল্পনা

মুখ্যমন্ত্রী ও পাঁচজন বিধায়ক আজ শপথ গ্রহণ করলেও, কে কোন দপ্তরের দায়িত্ব সামলাবেন তা নিয়ে এ দিন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। মনে করা হচ্ছে, আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই নবান্ন থেকে পূর্ণাঙ্গ পোর্টফোলিও প্রকাশ করা হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্বরাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলি কাদের হাতে যায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।

বাংলার শাসনব্যবস্থায় এই আমূল পরিবর্তন সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা প্রভাব ফেলে, তা সময়ই বলবে। তবে আজকের এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান যে রাজ্যে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের সূচনা করল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy