বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন ভোরের সূচনা হলো। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নবম তথা প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে রাজ্যপাল আর.এন. রবি তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। ভবানীপুরের মতো হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে শুভেন্দু আজ বাংলার ‘জননেতা’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেন।
মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং রাজনাথ সিং সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। যখন ব্রিগেডে শঙ্খধ্বনির মাধ্যমে শুভেন্দুর রাজকীয় অভিষেক হচ্ছিল, তখন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখা গেল সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় থাকতে। তিনি রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আদর্শ ও ঐক্য নিয়ে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন। কাকতালীয়ভাবে, কবিগুরুর জন্মজয়ন্তীর দিনটিকে সরকার গঠনের জন্য বেছে নিয়ে বিজেপি এক মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছে।
শুভেন্দুর সঙ্গে এদিন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পল এবং অশোক কীর্তনীয়া। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসন জিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিজেপি। কাঁথির অধিকারী পরিবারের সন্তান শুভেন্দু, যিনি একদা নন্দীগ্রাম আন্দোলনের নায়ক ছিলেন, আজ তিনিই বাংলার প্রশাসনিক প্রধান। প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে তাঁর আলিঙ্গন আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল, যা বুঝিয়ে দিচ্ছে আগামী দিনে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ে এক নতুন বাংলা গড়ার শপথ নিয়েছে গেরুয়া শিবির।





