হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে উর্দু কবিতা শেয়ার করা কি অপরাধ? মধ্যপ্রদেশের বেতুলের এক সরকারি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগে বড় রায় দিল হাইকোর্ট। শিক্ষক ফয়জান আনসারির বিরুদ্ধে দায়ের করা তিনটি এফআইআর সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি বিপি শর্মার একক বেঞ্চ। আদালতের স্পষ্ট বক্তব্য, সাহিত্যিক বা আবেগিক অভিব্যক্তি ততক্ষণ অপরাধ নয়, যতক্ষণ না তা সমাজে ঘৃণা ছড়াচ্ছে।
ঘটনাটি ঠিক কী? বেতুলের বাসিন্দা ফয়জান আনসারি তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে ইতিহাস এবং সামাজিক অবিচার নিয়ে কিছু উর্দু কবিতা পোস্ট করেছিলেন। এরপরই কিছু মানুষের আপত্তির ভিত্তিতে পুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩(২) ধারায় মামলা রুজু করে। পুলিশের দাবি ছিল, এই পোস্ট সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে। কিন্তু হাইকোর্ট সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ফয়জান আনসারি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ঘৃণা ছড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন এমন কোনো অকাট্য প্রমাণ নথিতে নেই।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, “ডিজিটাল যুগে ইন্টারনেটে পোস্ট করা সবকিছুকেই অপরাধমূলক দৃষ্টিতে দেখা যায় না।” সাহিত্যচর্চা বা ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশের সাংবিধানিক অধিকারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে হাইকোর্ট জানিয়েছে, সহিংসতায় উস্কানি দেওয়ার সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য না থাকলে কারো ডিজিটাল স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা যাবে না। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রায় আগামী দিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় মত প্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।





