পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের উত্তাপের মাঝেই প্রাক্তন সেনাকর্মী তথা শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত বিশ্বস্ত আপ্ত সহায়ক (PA) চন্দ্রনাথ রথের আকস্মিক মৃত্যুতে তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। আগামী শনিবার ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের ঠিক আগেই এই হত্যাকাণ্ড রাজ্য বিজেপির অন্দরে ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পৌঁছে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সেখান থেকেই তিনি কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রশাসনিক ও দলীয় স্তরে বড় ব্যবস্থার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ও শমীকের হুঙ্কার:
বারাসত হাসপাতালে দাঁড়িয়ে শমীক ভট্টাচার্য সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে, এই খুনের পিছনে এক গভীর অভিসন্ধি রয়েছে। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে আসছেন এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে। তার আগে রাজ্যে একটা অস্থিরতা তৈরির পরিকল্পিত চেষ্টা চলছে। যাঁর সঙ্গে সরাসরি রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই, একজন প্রাক্তন সেনাকর্তাকে কেন এভাবে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হল?” তিনি আরও যোগ করেন, “সিংহ স্থবির বলে কেউ যদি ভাবে পদাঘাত করবে, তবে তারা বড় ভুল করছে। এই ধরণের অশান্তি কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।”
তৃণমূলকে তোপ ও দলীয় শুদ্ধিকরণ:
শমীক ভট্টাচার্য এদিন অভিযোগ করেন যে, বিজেপির পতাকা ব্যবহার করে তৃণমূলের একাংশ হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে শুধু বিরোধী পক্ষই নয়, দলের ভেতর থাকা ‘অবাঞ্ছিত’দের নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। তিনি সাফ জানান, “আমি এখনই পার্টি অফিসে যাচ্ছি। যার যার নাম এই অশান্তি বা নেতিবাচক কাজে পাব, আজকেই তাদের পার্টি থেকে বার করে দেব।” অর্থাৎ, নয়া সরকার গঠনের আগেই দলে কোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা রাখতে নারাজ রাজ্য নেতৃত্ব।
শুভেন্দুর শান্ত থাকার বার্তা:
নিজের দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গীকে হারিয়ে শুভেন্দু অধিকারী শোকস্তব্ধ হলেও এদিন বারাসত থেকে কর্মীদের উদ্দেশ্যে সংযত থাকার বার্তা দিয়েছেন। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যাতে আবেগের বশে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে না নেন। চন্দ্রনাথ রথের মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলাকালীন হাসপাতাল চত্বরে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।
প্রাক্তন সেনাকর্মী চন্দ্রনাথ রথ কীভাবে এবং কেন খুনের লক্ষ্যবস্তু হলেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও বিজেপি নেতৃত্ব একে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখছে। এখন দেখার, শনিবারের মেগা ইভেন্টের আগে এই ঘটনা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর কতটা প্রভাব ফেলে।





