২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হতেই বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এখন বাস্তব। রাজ্যের মসনদ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিদায় নিশ্চিত হতেই জেলায় জেলায় শুরু হয়েছে হারানো জমি পুনরুদ্ধারের লড়াই। বিশেষ করে নদিয়া জেলায়, যেখানে ১৭টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১৪টিতেই জয়ী হয়েছে বিজেপি এবং তৃণমূলের ক্ষমতা কার্যত ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গিয়েছে, সেখানে এবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠল কংগ্রেস। করিমপুর ২ নম্বর ব্লকের নতিডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় দীর্ঘ এক দশক পর নিজেদের দলীয় কার্যালয় পুনর্দখল করল কংগ্রেস কর্মীরা।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার, যখন নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল স্পষ্ট হতেই দেখা যায় রাজ্যে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়তে চলেছে। তৃণমূলের ভরাডুবির খবর ছড়িয়ে পড়তেই করিমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী পূজা রায় চৌধুরীর নেতৃত্বে কয়েক’শ কর্মী-সমর্থক চড়াও হন নতিডাঙ্গার ওই বিতর্কিত দলীয় কার্যালয়ে। কংগ্রেসের দাবি, ২০১১ সালে রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ঘাসফুল শিবির ক্ষমতায় আসার পরপরই গায়ের জোরে এই কার্যালয়টি দখল করে নিয়েছিল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। দীর্ঘ ১৫ বছর সেই কার্যালয়টি তৃণমূলের দখলে থাকলেও, সরকার পরিবর্তনের ইঙ্গিত পেতেই পাল্টা ব্যবস্থা নিল হাত শিবির।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কংগ্রেস কর্মীরা তৃণমূলের পোস্টার, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন এবং দেওয়ালে থাকা তৃণমূলের নাম মুছে দিয়ে সেখানে কংগ্রেসের নতুন ব্যানার ও পতাকা লাগিয়ে দেন। দীর্ঘদিনের ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে পূজা রায় চৌধুরী জানান, “দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল আমাদের এই কার্যালয় দখল করে রেখেছিল। আজ সাধারণ মানুষের রায়ে স্বৈরাচারী সরকারের পতন হয়েছে। তাই আমরা গণতান্ত্রিক উপায়ে আমাদের নিজস্ব কার্যালয় পুনরুদ্ধার করলাম।”
তবে এই দখলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। খবর পেয়ে করিমপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে কংগ্রেস সমর্থকদের ব্যাপক কথা কাটাকাটি ও তর্কাতর্কি শুরু হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস কর্মীরা পিছু হঠেননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০১১ সালে বাম ও কংগ্রেসের বহু কার্যালয় এভাবেই দখল করেছিল তৎকালীন শাসক দল। এখন ক্ষমতায় পালাবদল হতেই সেই পুরনো প্রতিহিংসা বা ‘অধিকার ফিরে পাওয়ার’ রাজনীতি ফের বঙ্গে প্রকট হয়ে উঠছে। করিমপুরের এই ঘটনা কেবল শুরু মাত্র, আগামী দিনে জেলাজুড়ে এমন আরও ঘটনার আশঙ্কা করছে ওয়াকিবহাল মহল।





