বছরের শুরু থেকেই যাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তোলপাড় ছিল রাজ্য রাজনীতি, সেই হিরণ চট্টোপাধ্যায়ই শেষমেশ বিজয়ী বীরের বেশে ধরা দিলেন। খড়গপুরের মায়া কাটিয়ে এবার হাওড়ার শ্যামপুর থেকে পদ্ম ফোটালেন টলিউডের এই অভিনেতা। আর এই বড় জয়ের মুহূর্তটি তিনি উদযাপন করলেন তাঁর ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ ঋতিকা গিরির সঙ্গে। জয়ের শংসাপত্র হাতে আসতেই হিরণ ও ঋতিকার মেতে উঠলেন গেরুয়া আবিরে।
জয়ের দিনে ছায়াসঙ্গী ঋতিকা ৪ মে গণনার শুরু থেকেই হিরণের পাশে দেখা গিয়েছিল ঋতিকাকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, হালকা ঘিয়ে রঙের শাড়ি আর হাতে লাল চুড়ি পরে বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে উল্লাসে মেতেছেন ঋতিকা। হিরণ জয়ী হতেই তাঁর গালে আবির মাখিয়ে দেন তিনি। বিয়ের পর তাঁদের একসঙ্গে খুব একটা দেখা না গেলেও, স্বামীর রাজনৈতিক সাফল্যের দিনে নিজেকে আড়ালে রাখেননি ঋতিকা। একটি সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, “এই জয় আমাদের একার নয়। আমি কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নই, তবে বিজেপিকে সবসময় সাপোর্ট করি।”
ব্যক্তিগত বিতর্ক বনাম রাজনৈতিক সাফল্য ২০২৬-এর জানুয়ারিতে বারাণসীর ঘাটে ঋতিকার সঙ্গে হিরণের বিয়ের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছিল আইনি বিতর্ক। হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে এখনও আইনি বিচ্ছেদ বা ডিভোর্স হয়নি, ফলে এই বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। এমনকি অনিন্দিতা এই নিয়ে আইনি পদক্ষেপও করেছিলেন। তবে সমস্ত বিতর্ককে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শ্যামপুরের মানুষ হিরণকেই বেছে নিয়েছেন।
হলফনামায় প্রথম স্ত্রীর নাম, পাশে ঋতিকা মজার বিষয় হলো, হিরণ তাঁর নির্বাচনী হলফনামায় আইন মেনে প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতার নামই উল্লেখ করেছিলেন, যদিও ব্র্যাকেটে লেখা ছিল ‘সেপারেটেড’ বা বিচ্ছিন্ন। তবে বাস্তবের আঙিনায় হিরণ এখন ঋতিকার সঙ্গেই থাকেন। হিরণের জয়ে অবশ্য খুশি তাঁর প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতাও। তবে স্ত্রী হিসেবে নয়, হিরণের মেয়ের মা হিসেবে প্রাক্তন স্বামীর এই সাফল্যকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল সেলিব্রেশন ভোটের আগে ঋতিকা তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে হিরণের জন্য ডিজিটাল প্রচার চালিয়েছিলেন। আর জয়ের পর হিরণের সঙ্গে তাঁর রোমান্টিক ছবি ও ভিডিও এখন নেটপাড়ায় ট্রেন্ডিং। নিন্দুকেরা যাই বলুক, শ্যামপুরে ‘মাচো মস্তানা’র ম্যাজিক যে কাজ করেছে, তা এখন প্রমাণিত।





