তামিলনাড়ুর দীর্ঘ ছয় দশকের রাজনৈতিক ব্যাকরণ এক লহমায় বদলে দিলেন ‘থলাপতি’ বিজয়। দক্ষিণের এই রাজ্যে ডিএমকে এবং এআইডিএমকে-র যে দ্বৈত আধিপত্য বছরের পর বছর ধরে চলে আসছিল, তাতে বড়সড় ভাঙন ধরিয়ে দিয়েছেন অভিনেতা থেকে নেতা হওয়া বিজয়ের দল টিভিকে (TVK)। ২৩৪ আসনের বিধানসভায় ১০৮টি আসন জিতে একক বৃহত্তম শক্তি হিসেবে উঠে এসেছেন তিনি। তবে ম্যাজিক ফিগার ১১৮ থেকে কিছুটা দূরে থমকে যাওয়ায় সরকার গঠন নিয়ে তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা। সেই জটিলতা কাটাতে এবার বড় ভূমিকা নিতে চলেছে কংগ্রেস।
মঙ্গলবার গভীর রাতে তামিলনাড়ু কংগ্রেসের পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স কমিটির বৈঠকে টিভিকে-কে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তবে এই সমর্থন একেবারেই শর্তহীন নয়। ২০২৬-এর নির্বাচনে পাঁচটি আসন জেতা কংগ্রেস সরকারে নিজেদের জায়গা পাকা করতে মরিয়া। ‘ইন্ডিয়া টুডে’-র রিপোর্ট অনুযায়ী, সমর্থনের বিনিময়ে অন্তত দুটি ক্যাবিনেট মন্ত্রীর পদ এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বোর্ডের চেয়ারম্যান পদ দাবি করতে পারে হাত শিবির।
দলের এআইসিসি ইনচার্জের ডাকা একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে ইতিমধেই এই সংক্রান্ত প্রস্তাব পাস হয়ে গিয়েছে। বুধবারই কংগ্রেসের তরফে একটি আনুষ্ঠানিক সমর্থনপত্র প্রকাশ করার কথা। এরপরই কংগ্রেস বিধায়করা পানাইয়ুরে বিজয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জোটের রূপরেখা চূড়ান্ত করবেন। এই সমর্থনের ফলে বিজয়ের সরকার গঠনের পথে আর কোনও আইনি বাধা থাকছে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তামিল রাজনীতিতে এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ডিএমকে-কে হারের স্বাদ চখানো এবং এআইডিএমকে-কে তৃতীয় স্থানে ঠেলে দিয়ে বিজয় প্রমাণ করেছেন, দ্রাবিড় রাজনীতির বাইরেও বিকল্প খুঁজছে মানুষ।
সূত্রের দাবি, আগামী ৭ মে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন বিজয়। তাঁর সঙ্গে আরও নয়জন ক্যাবিনেট মন্ত্রীর শপথ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে কাল থেকেই দক্ষিণের এই রাজ্যে শুরু হতে চলেছে ‘বিজয় যুগ’।





