রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফার ভোটগ্রহণ মিটেছে গত বুধবার। আর তার ঠিক তিন দিনের মাথায়, শনিবার রাতের অন্ধকারে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল হুগলির পান্ডুয়া। রেলপাড় এলাকায় রেল কর্তৃপক্ষের নজিরবিহীন উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযোগ, কোনওরকম বাড়তি সময় না দিয়েই বুলডোজার চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে একের পর এক বসতবাড়ি ও দোকান। ঘর হারিয়ে মাথার ওপর ছাদহীন অবস্থায় এখন রাস্তায় দিন কাটছে কয়েকশো মানুষের।
নোটিস ও উচ্ছেদের টাইমিং নিয়ে ক্ষোভ: স্থানীয় সূত্রে খবর, লোকসভা নির্বাচন ঘোষণার অনেক আগেই রেলপাড়ের বাসিন্দাদের উচ্ছেদের নোটিস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভোট চলাকালীন কোনও অজ্ঞাত কারণে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া থমকে ছিল। অভিযোগ, বুধবার ভোট মিটতেই সক্রিয় হয়ে ওঠে রেল কর্তৃপক্ষ। নতুন করে নোটিস পাঠিয়ে মাত্র এক দিনের সময় দেওয়া হয় বাসিন্দাদের। এত অল্প সময়ে বিকল্প মাথা গোঁজার ঠাঁই জোগাড় করা সম্ভব হয়নি অনেকের পক্ষেই। বাসিন্দাদের দাবি, সময় বাড়ানোর আবেদন জানানো হলেও কর্ণপাত করেনি রেল। উল্টে শনিবার রাতে অতর্কিতে বুলডোজার নিয়ে শুরু হয় ভাঙচুর।
বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন বাসিন্দারা: রাতের অন্ধকারে ছাদ হারানো সাধারণ মানুষ ক্ষোভে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। এক আর্ত বাসিন্দার কথায়, “ভোটের সময় আমাদের দরকার ছিল বলে হাত দেয়নি। ভোট ফুরোতেই সব কেড়ে নিল। আমরা এখন কোথায় যাব?” অনেকেরই অভিযোগ, মানবিকতার খাতিরে আরও কয়েকটা দিন সময় দিলে তাঁরা অন্তত আসবাবপত্র বা ছোট শিশুদের নিয়ে নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে পারতেন।
রাজনৈতিক চাপানউতর: ভোটের ঠিক পরেই এই বিশাল উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূল ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের পালা। ঘটনার সংবেদনশীলতা বিচার করে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। এখনও পর্যন্ত এই অভিযান নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষের তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে পান্ডুয়ার রেলপাড় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঘরহারা মানুষগুলোর অসহায় আর্তি এখন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। ভোট মিটতেই উন্নয়নের নামে এই ‘বুলডোজার রাজনীতি’ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন সাধারণ নাগরিকরা।





