প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর ভারতের পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল দেশ। ভারতের প্রথম দেশীয় প্রযুক্তির পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ যুদ্ধবিমান ‘অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট’ (AMCA) তৈরির জন্য বিশাল কর্মকাণ্ড শুরু হতে চলেছে অন্ধ্রপ্রদেশে। রাজ্য মন্ত্রিসভা এই প্রকল্পের জন্য শ্রী সত্য সাই জেলার পুট্টাপর্তিতে ৬০০ একর জমি অনুমোদন করেছে।
কেন এই প্রকল্প এত গুরুত্বপূর্ণ? ভারতের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী ‘AMCA’ প্রকল্পটি মূলত একটি পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান, যা রাডারের চোখ ফাঁকি দিতে সক্ষম (Stealth Technology)। বর্তমানে বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকটি দেশের কাছে এই প্রযুক্তি রয়েছে। ভারতের নিজস্ব এই যুদ্ধবিমান তৈরি হলে বিমানবাহিনীর শক্তি বহুগুণ বেড়ে যাবে এবং চীন বা পাকিস্তানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় ভারত আকাশপথে কয়েক কদম এগিয়ে থাকবে।
পুট্টাপর্তিতেই কেন কারখানা? প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO)-র অধীনস্থ অ্যারোনটিক্যাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (ADA) এই প্রকল্পটি পরিচালনা করছে। বেঙ্গালুরুর এয়ারপোর্টের ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণে পুট্টাপর্তিকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এটি বেঙ্গালুরুর সদর দপ্তরের কাছাকাছি হওয়ায় যাতায়াত এবং কারিগরি পরীক্ষার কাজ সহজ হবে। রাজ্য সরকার এই জমি বিনামূল্যে ডিআরডিও-কে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
১ লক্ষ কোটির বিনিয়োগ ও ব্যাপক কর্মসংস্থান কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিকদের মতে, এই মেগা প্রজেক্টে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। পুট্টাপর্তিতে কেবল উৎপাদনের কারখানাই নয়, বিজ্ঞানীদের জন্য আবাসন এবং একটি অত্যাধুনিক ফ্লাইট টেস্টিং কমপ্লেক্সও তৈরি করা হবে। এই প্রকল্পের ফলে অন্ধ্রপ্রদেশে কয়েক হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি সহযোগী শিল্পেও বিপ্লব আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সব ঠিক থাকলে ২০২৯ সালের মধ্যেই এই শক্তিশালী ফাইটার জেটের প্রথম প্রোটোটাইপ বা পরীক্ষামূলক সংস্করণ আত্মপ্রকাশ করবে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পুট্টাপর্তি ভারতের অন্যতম প্রধান অ্যারোস্পেস এবং প্রতিরক্ষা হাব হিসেবে পরিচিতি পেতে চলেছে।





