হাইভোল্টেজ ভোট গণনার ঠিক আগের মুহূর্তে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে ব্যারাকপুরের রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জলঘোলা শুরু করলেন বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং। তাঁর দাবি, গণনা কেন্দ্রে তথ্য বা ডেটা হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বড়সড় কারচুপি হতে পারে। এই নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগও জমা দিয়েছেন তিনি।
কী নিয়ে এই হ্যাকিং আতঙ্ক? নোয়াপাড়া থেকে লড়াই করা অর্জুন সিংয়ের অভিযোগ, গণনা কেন্দ্রের ভেতরে থাকা ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা এবং ডেটা ট্রান্সমিশন পদ্ধতিতে বাইরে থেকে কেউ আড়ি পাততে পারে। তাঁর আশঙ্কা, গণনার নির্ভুল তথ্য বিকৃত করতে প্রযুক্তিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। রাজনৈতিক মহলের মতে, গণনার শেষ মুহূর্তে এমন অভিযোগ তুলে তিনি প্রকারান্তরে প্রশাসন ও কমিশনের ওপর চাপ বাড়িয়ে রাখলেন।
কমিশনে নালিশ ও নিরাপত্তার দাবি অর্জুন সিং জানিয়েছেন, ভোট গণনার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে গণনা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক গ্যাজেটের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা প্রয়োজন। শুধু তাই নয়, কাউন্টিং হলের ভেতরে থাকা জ্যামার ও সার্ভার নিরাপত্তা যাতে নিশ্ছিদ্র থাকে, সেই দাবিও তুলেছেন তিনি। বিজেপি শিবিরের দাবি, ব্যারাকপুরের মতো সংবেদনশীল এলাকায় গণনার দিন কোনো ধরণের প্রযুক্তিগত কারচুপি যাতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে কমিশনকেই।
পাল্টা তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া অর্জুন সিংয়ের এই দাবিকে স্রেফ ‘ভয়ের বহিঃপ্রকাশ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল শিবির। তাদের দাবি, পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই এখন অবান্তর অভিযোগ তুলছেন বিজেপি প্রার্থী। ইভিএম এবং গণনা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত, তাই হ্যাকিংয়ের তত্ত্ব হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই নয়।
আগামীকাল গণনা কেন্দ্রে এই নিয়ে কোনো অশান্তি দানা বাঁধে কি না, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন। ব্যারাকপুরের স্ট্রং রুম এবং গণনা কেন্দ্রের বাইরে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। তবে অর্জুনের এই হ্যাকিংয়ের আশঙ্কা ঘিরে ভোটারদের মনেও তৈরি হয়েছে কৌতূহল। শেষ পর্যন্ত ব্যালট বক্সের রায় কার পক্ষে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বাংলা।





