মধ্যপ্রাচ্যের আগুন এবার ভারতের দোরগোড়ায়! ‘মহাসাগর’ রক্ষায় মোদী সরকারকে বড় পরামর্শ থিঙ্ক-ট্যাঙ্কের

মধ্যপ্রাচ্যের রণংদেহী পরিস্থিতি আর কেবল আরব সাগর বা লোহিত সাগরে সীমাবদ্ধ নেই, তার আঁচ এবার সরাসরি এসে লেগেছে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে (IOR)। বুলগেরিয়া-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক ‘মডার্ন ডিপ্লোমেসি’-র একটি সাম্প্রতিক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে ভারতকে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও নজরদারিতে অবিলম্বে নেতৃত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারত মহাসাগর আর আগের মতো নিরাপদ নেই, এবং যেকোনো বড় সংঘাত রুখতে ভারতকে তার সামরিক ও কূটনৈতিক কৌশল ঢেলে সাজাতে হবে।
উত্তেজনার ভরকেন্দ্র ভারত মহাসাগর:
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং ইসরায়েলের মধ্যে চলমান দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রভাব এখন এই শান্ত জলভাগকেও অস্থির করে তুলছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে, যা ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই উত্তেজনার প্রমাণ হিসেবে দুটি নির্দিষ্ট ঘটনার ওপর আলোকপাত করা হয়েছে:
১. শ্রীলঙ্কার জলসীমার কাছে ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘ইরিস ডেনা’-র রহস্যজনক সলিল সমাধি।
২. ডিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত অতি-গুরুত্বপূর্ণ যুক্তরাজ্য ও মার্কিন যৌথ সামরিক ঘাঁটির দিকে ধেয়ে আসা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।
এই ঘটনাগুলো ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য একটি স্পষ্ট ‘রেড সিগন্যাল’ বা বিপদ সংকেত বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। কয়েক দশক ধরে তুলনামূলকভাবে শান্ত থাকা এই অঞ্চলে এই প্রথম সরাসরি সামরিক বিপদের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে।
নেতৃত্বের ভূমিকায় ভারত:
‘মডার্ন ডিপ্লোমেসি’-র রিপোর্ট অনুযায়ী, কলম্বো নিরাপত্তা সম্মেলন (CSC) এবং ভারত মহাসাগর নৌ সিম্পোজিয়াম (IONS)-এর মতো আঞ্চলিক মঞ্চগুলোকে ব্যবহার করে ভারতের উচিত প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা। এই অঞ্চলের বৃহত্তম সামরিক শক্তি হিসেবে ভারতকেই এখানে ‘বিগ ব্রাদার’ বা প্রধান নিরাপত্তা অংশীদারের ভূমিকা পালন করতে হবে।
সাগর থেকে মহাসাগর নীতি:
ভারত সরকারের বর্তমান ‘সাগর’ (SAGAR – Security and Growth for All in the Region) নীতিকে ২০২৫ সালে আরও শক্তিশালী করে ‘মহাসাগর’ মডেলে উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, কেবল নীতিগত উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এর পেছনে প্রয়োজন নিশ্ছিদ্র সামরিক সক্ষমতা এবং অত্যাধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা। ভারত মহাসাগরের উপকূলবর্তী দেশগুলোর নিরাপত্তা এখন আর কেবল গুটিকতক চুক্তিতে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়, বরং একটি সমন্বিত ও কার্যকর সামরিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সময়ের দাবি। সংক্ষেপে, ভারতকে এখন থেকেই নিজেকে একটি নির্ভরযোগ্য ‘নেট সিকিউরিটি প্রোভাইডার’ হিসেবে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।