ভারতীয় শেয়ার বাজারে ঝোড়ো হাওয়া! লগ্নিকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়ে বৃহস্পতিবার দালাল স্ট্রিটে বড়সড় ধস নামল। সেনসেক্স এবং নিফটি—উভয় সূচকই আজ বিনিয়োগকারীদের রক্তচাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। লেনদেন শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেনসেক্স ৯২২ পয়েন্টের বেশি হারিয়ে ৭৬,৬০০ স্তরের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছে। অন্যদিকে, নিফটি ৩০২ পয়েন্ট কমে ২৩,৮৭৫-এর ঘরে নেমে এসেছে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আজ পতনের সবচেয়ে বড় কারণ হল অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) আকাশছোঁয়া দাম। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে ভারতের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির ওপর। পাশাপাশি মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখায় এবং বিশ্বব্যাপী মন্দার ইঙ্গিত দেওয়ায় লগ্নিকারীরা চরম আতঙ্কে রয়েছেন।
আজকের বাজারে সবচেয়ে বেশি ধস নেমেছে ব্যাংকিং খাতে। নিফটি ব্যাংক এখন পর্যন্ত প্রায় ১.৫% দর হারিয়েছে। পতন থেকে রেহাই পায়নি আদানি এনার্জি সলিউশনস, জোম্যাটো এবং পিএফসি-র মতো বড় শেয়ারগুলিও। এর ওপর যুক্ত হয়েছে দীর্ঘ ছুটির মেজাজ। আগামীকাল, ১ মে মহারাষ্ট্র দিবস উপলক্ষে শেয়ার বাজার বন্ধ থাকবে। এরপর শনি ও রবিবার স্বাভাবিক ছুটি। একটানা কয়েকদিন লেনদেন বন্ধ থাকার আশঙ্কায় অনেক বিনিয়োগকারী তাড়াহুড়ো করে শেয়ার বিক্রি করে দিয়ে হাত হালকা করছেন।
বিশ্ববাজারের পরিস্থিতিও খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, পারমাণবিক চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর নৌ অবরোধ জারি থাকবে। এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তজনা তেলের দামকে আরও উসকে দিচ্ছে। ওয়াল স্ট্রিটেও টানা পাঁচ দিন পতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। ডাও জোন্স প্রায় ২৮০ পয়েন্ট খুইয়ে বন্ধ হয়েছে। যার সরাসরি প্রভাব দেখা গেছে জাপানের নিক্কেই (Nikkei) এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং (Hang Seng) সূচকেও।





