২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ঠিক আগে পারদ চড়ালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের পাশাপাশি এবার ভবানীপুর থেকেও বিজেপির তুরুপের তাস তিনি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে শুভেন্দু প্রশ্ন তুললেন— ‘১৫ বছরের মমতা শাসন কি শুধুই সাম্প্রদায়িক?’
মমতার বিরুদ্ধে ‘হিন্দু বিরোধী’ অভিযোগ: শুভেন্দুর আক্রমণের মূলে ছিল হিন্দুধর্মীয় ভাবাবেগ। তাঁর দাবি, শাসকদলের হাতে উন্নয়নের কোনো ইস্যু নেই বলেই তারা সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের আশ্রয় নিচ্ছে। বিধানসভায় ‘মহাকুম্ভ’ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যকে হাতিয়ার করে শুভেন্দু বলেন, “কোনো মুসলিম ভাই এই পবিত্র অনুষ্ঠানকে ‘মিথ’ বলেননি, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী এমন মন্তব্য করে হিন্দু সমাজকে আঘাত করেছেন।” রাম মন্দির উদ্বোধনের দিন মমতার আপত্তির বিষয়টিও এদিন নতুন করে মনে করিয়ে দেন তিনি।
সিএএ (CAA) নিয়ে চ্যালেঞ্জ: নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে তৃণমূলের লাগাতার প্রচারকে ‘ভ্রান্ত’ বলে দাবি করেছেন শুভেন্দু। তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “সিএএ-কে এনআরসি বলে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো হচ্ছে। আপনারা কি একটি নাম দিতে পারবেন, যাকে সিএএ-র কারণে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে?” তাঁর মতে, গুজব ছড়িয়ে রাজ্যে অশান্তি পাকানোই তৃণমূলের মূল লক্ষ্য।
প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে বিস্ফোরণ: মুর্শিদাবাদের ওয়াকফ সংশোধনী আইনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু দাবি করেন, হিন্দু গ্রামগুলোতে অশান্তি হলেও প্রশাসন ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে বসেছিল। এক সিপিআই(এম) সমর্থকের মৃত্যুর তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মন্দির ও দেবদেবীর মূর্তি ভাঙার ঘটনার জন্য সরাসরি প্রশাসনের ব্যর্থতা এবং একটি বিশেষ ‘মতাদর্শ’-কে দায়ী করেন বিরোধী দলনেতা।
তৃণমূলের পাল্টা জবাব: শুভেন্দুর এই কড়া মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তৃণমূল শিবির থেকেও পাল্টা প্রতিক্রিয়া এসেছে। শাসকদলের নেতাদের দাবি, পরাজয় নিশ্চিত জেনেই বিজেপি সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরি করে ভোটের ফায়দা তুলতে চাইছে। বিজেপি-র এই ‘বিভাজনের রাজনীতি’ বাংলার মানুষ প্রত্যাখ্যান করবে বলেও তাঁদের দাবি।
সম্পাদকের নোট: ভোটের মুখে উন্নয়ন বনাম মেরুকরণ— দুই পক্ষের এই লড়াই বাংলার রাজনীতির উত্তাপকে এক চরম শিখরে নিয়ে গিয়েছে। এখন দেখার, জনসভা থেকে শুভেন্দুর এই বিস্ফোরক অভিযোগগুলো সাধারণ ভোটারের মনে কতটা প্রভাব ফেলে।





