২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত এবং বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কি ফের মাঠ গোছাতে শুরু করেছে? গত কয়েকদিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দলটির নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল, গোপন শপথ গ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক মহলে দৌড়ঝাঁপ নতুন করে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা উসকে দিয়েছে।
রাতের অন্ধকারে ‘হাসিনাকে ফেরানোর’ শপথ সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের কালকিনি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, জনমানবহীন নদীর পাড়ে মোবাইল ফোনের লাইট জ্বালিয়ে একদল ব্যক্তি শপথ নিচ্ছেন। তারা শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন। কমলনগর থানা পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
জাতিসংঘে আইনজীবীদের চিঠি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার প্রশ্নে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে কক্সবাজার থেকে। দলটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার এবং বাংলাদেশ সরকারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির ১৭৩ জন সদস্য। তাদের দাবি, সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী।
আওয়ামী লীগের অবস্থান কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীরা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। নেতাকর্মীদের একাংশ মনে করছেন, নির্বাচনের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে, যদিও বর্তমান বিএনপি সরকার সংসদে ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) বিল-২০২৬’ পাসের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতামত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কে এম মহিউদ্দিনের মতে, একটি পুরনো দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার চেষ্টা করাটা অস্বাভাবিক নয়। তবে বর্তমান সরকার, নাগরিক সমাজ এবং বিরোধী দলগুলোর প্রচণ্ড চাপের মুখে আওয়ামী লীগের জন্য রাজনীতিতে ফেরা এখন ‘হিমালয় টপকানোর’ মতোই কঠিন চ্যালেঞ্জ।
আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় তারা গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। সংসদীয় আইন অনুযায়ী তাদের নিষেধাজ্ঞা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তবুও দেশের বিভিন্ন জায়গায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান এবং ঝটিকা মিছিল প্রমাণ করছে যে, দলটির তৃণমূল এখনো গোপনে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছে।





