পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ নির্বাচন ঘিরে যত সময় এগোচ্ছে, ততই সংঘাতের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা। এবার বিতর্কের কেন্দ্রে নির্বাচন কমিশনের নিযুক্ত পর্যবেক্ষক তথা উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মা। মাঝরাতে বিনা ওয়ারেন্টে বাড়িতে ঢুকে মহিলাদের ওপর হামলা এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এই ‘সিংঘম’ অফিসারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ।
ঘটনাটি ঠিক কী? ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের হয়ে প্রচার চলাকালীন অভিযোগ উঠেছে যে, গত ২৭শে এপ্রিল রাতে পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মা বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে স্থানীয় মানুষের বাড়িতে চড়াও হন। এক ভুক্তভোগী মহিলার অভিযোগ, অজয় পাল এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা তাঁকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ দেন এবং শ্লীলতাহানি ও হুমকি প্রদান করেন।
তৃণমূলের তোপ ও মহুয়ার কটাক্ষ এই ঘটনা সামনে আসতেই সরব হয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। দলের মুখপাত্র শান্তনু সেন অভিযোগ করেছেন যে, এই পুলিশ অফিসারের অতীত রেকর্ড অত্যন্ত বিতর্কিত। ঘুষ নেওয়া থেকে শুরু করে একাধিক মহিলার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এদিকে, তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় অজয় পাল শর্মার একটি নাচের ভিডিও পোস্ট করে তীব্র ব্যঙ্গ করেছেন। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে আইপিএস অফিসার একটি অর্কেস্ট্রার সঙ্গে নাচছেন। মহুয়া লিখেছেন, “ফর্সা ও মিষ্টি বাবুয়া অজয় পাল, আপনাকে ফ্যান্টাকপ স্টাইলে মজা করতে দেখে ভালো লাগছে। ঠান্ডা মাথায় থাকুন, বাংলা চিরকাল তৃণমূল।”
আদালতে স্বস্তি মেলেনি অজয় পাল শর্মার বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে একটি পিটিশন দাখিল করা হয়েছিল। তবে আদালত আপাতত এই মামলায় হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করেছে। বিচারপতি জানিয়েছেন, ২৯শে এপ্রিলের আগে এই বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ করা সম্ভব নয়। এর ফলে আপাতত আইনি লড়াইয়ের মুখেই থাকতে হচ্ছে উত্তরপ্রদেশের এই বিতর্কিত অফিসারকে।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ফলতার সাধারণ মানুষের অভিযোগ, নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক হিসেবে যাঁকে পাঠানো হয়েছে, তাঁর আচরণ পক্ষপাতদুষ্ট এবং নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী। বর্তমানে এলাকায় প্রবল উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং জননিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বাংলার মাটিতে ‘উত্তরপ্রদেশ স্টাইল’ কি কাজ করবে? নাকি এই আইনি লড়াই অজয় পালের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনবে? উত্তরের অপেক্ষায় এখন গোটা রাজ্য।





