ক সময় তিনি ছিলেন বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায়। আজ সেই অনিল আম্বানির সাম্রাজ্য কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিল্পপতি অনিল আম্বানি ও তাঁর গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এক বিশাল পদক্ষেপ নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। আর্থিক তছরুপ এবং ব্যাঙ্ক জালিয়াতির মামলায় এক ধাক্কায় অনিল আম্বানি গ্রুপের ৩,০৩৪ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা।
কী কী খোয়ালেন অনিল আম্বানি? ইডির দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, বাজেয়াপ্ত হওয়া সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে:
মুম্বইয়ের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও খান্ডালার সুবিশাল ফার্ম হাউজ।
আমেদাবাদের সানন্দে অবস্থিত বিশাল আয়তনের জমি।
রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারের প্রায় ৭.৭১ কোটি টাকার শেয়ার।
এছাড়া তাঁর রাজপ্রাসাদ সম ‘অ্যাবোড’ (Abode) আগেই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
পালি হিলের রাজপ্রাসাদও ইডির কবজায় উল্লেখ্য, মুম্বইয়ের অভিজাত এলাকা পালি হিলে অবস্থিত আম্বানির ১৭ তলা উচ্চতার বিলাসবহুল বাসভবন ‘অ্যাবোড’ (Abode)-ও এখন ইডির নিয়ন্ত্রণে। ৬৬ মিটার উঁচু এই প্রাসাদটি ভারতের অন্যতম ব্যয়বহুল আবাসন। এই মামলার পর অনিল আম্বানি গ্রুপের থেকে মোট বাজেয়াপ্ত হওয়া সম্পত্তির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে আকাশছোঁয়া ১৯,৩৪৪ কোটি টাকা।
কেন এই কঠোর পদক্ষেপ? অভিযোগ উঠেছে, রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস সহ আম্বানি গোষ্ঠীর সংস্থাগুলো ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া বিপুল পরিমাণ ঋণ নির্ধারিত কাজে ব্যবহার না করে অন্যত্র সরিয়ে দিয়েছে। স্টেট ব্যাঙ্ক এবং ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া ইতিপূর্বেই এই ঋণ অ্যাকাউন্টগুলোকে ‘প্রতারক’ বলে ঘোষণা করেছিল। তহবিলের অপব্যবহার এবং জালিয়াতির সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এবার চূড়ান্ত সাঁড়াশি অভিযানে নেমেছে ইডি।
কর্পোরেট দুনিয়ায় তোলপাড় ভারতের কর্পোরেট ইতিহাসে এটি অন্যতম বৃহত্তম আর্থিক দুর্নীতি সংক্রান্ত তদন্ত। ইডির এই পদক্ষেপের ফলে অনিল আম্বানির ফেরার পথ কি তবে চিরতরে বন্ধ হতে চলেছে? বর্তমানে সম্পত্তিগুলো সাময়িকভাবে বাজেয়াপ্ত করা হলেও, ইডি জানিয়েছে তদন্তের শিকড় আরও গভীরে।





