মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে কি তবে বরফ গলতে শুরু করল? নাকি এটি বড় কোনো ঝড়ের আগের নিস্তব্ধতা? বিশ্ব রাজনীতির নজর এখন তেহরানের সেই গোপন বার্তার দিকে, যা পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পৌঁছেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টেবিলে। বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি তেলের নিয়ন্ত্রক হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে একগুচ্ছ প্রস্তাব দিয়েছে ইরান।
কী রয়েছে ইরানের নতুন প্রস্তাবে? আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ (Axios)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান প্রধানত তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছে:
স্থায়ী যুদ্ধবিরতি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েছিলেন, তাকে আরও দীর্ঘায়িত করা অথবা যুদ্ধের চিরস্থায়ী অবসান ঘটানো।
হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করা: মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ সরিয়ে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে পুনরায় তেল ও এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক করা।
পরমাণু আলোচনা স্থগিত: ইরানের প্রস্তাবের সবচেয়ে বড় চমক হলো—তারা এখনই পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে কথা বলতে চায় না। আগে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তবেই পরবর্তী পর্যায়ে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে আলোচনা শুরু করতে চায় তেহরান।
ট্রাম্পের ‘সহজ’ শর্ত ও হোয়াইট হাউসের অবস্থান ইরানের এই প্রস্তাব হোয়াইট হাউসের হাতে পৌঁছালেও ট্রাম্প প্রশাসন এতে এখনই সায় দিচ্ছে না। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস স্পষ্ট জানিয়েছেন, “প্রেসিডেন্ট এমন কোনো চুক্তি করবেন না যা আমেরিকার স্বার্থের পরিপন্থী। ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।”
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁর অনড় অবস্থান জানিয়ে বলেছেন, “ওরা জানে চুক্তিতে কী থাকতে হবে। বিষয়টা খুব সহজ—ওদের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না। নইলে আলোচনার কোনো মানেই হয় না।”
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালী? পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই প্রণালীটি বিশ্ব অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। বর্তমানে মার্কিন নৌ-অবরোধের ফলে এখান দিয়ে জাহাজ চলাচল থমকে গিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপর।
কূটনৈতিক দড়ি টানাটানি ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইতিমধ্যে রাশিয়া ও ওমান সফর করে আন্তর্জাতিক চাপ তৈরির চেষ্টা করছেন। কূটনৈতিক মহলের মতে, ইরান চাইছে আগে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে নিজেদের অর্থনীতিকে সচল করতে, আর ট্রাম্পের লক্ষ্য হলো শুরুতেই ইরানের পারমাণবিক স্বপ্ন ধূলিসাৎ করা। এই ইগো-লড়াইয়ের মাঝে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি এখন বিশ বাঁও জলে।





