দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। ঠিক তার আগেই রণক্ষেত্রের বদলে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হলো কলকাতার মেয়রের বাড়ির দোরগোড়ায়। সোমবার গভীর রাতে কলকাতা বন্দর এলাকার তৃণমূল প্রার্থী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে হাজির হলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা এবং খোদ পুলিশ পর্যবেক্ষক। মধ্যরাতের এই সফরকে ‘অপমান’ এবং ‘হুমকি’ হিসেবেই দেখছেন ক্ষুব্ধ ফিরহাদ।
ঠিক কী ঘটেছিল সোমবার রাতে? ফিরহাদের অভিযোগ অনুযায়ী, ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত পৌনে একটা। গোটা চেতলা এলাকা যখন ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই সজাগ হয়ে ওঠে মেয়রের বাড়ির সামনের রাস্তা। হাউজ গার্ডের ডাকে বাইরে বেরিয়ে আসেন ফিরহাদ। তাঁর দাবি, পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁকে রাস্তায় ডেকে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দেয়। মেয়রের কথায়, “আমাকে বলা হচ্ছে ভোটে গণ্ডগোল হলে মুশকিলে পড়বেন। আরে ভাই, আমাকে কী মুশকিলে ফেলবে? নকশাল আমলে যেভাবে রাতের অন্ধকারে তল্লাশি চলত, এখন সেই এক ছবি দেখা যাচ্ছে।”
আসল টার্গেট কি ভবানীপুর? ফিরহাদ হাকিম কলকাতা বন্দর এলাকার প্রার্থী হলেও তিনি ভবানীপুর বিধানসভার তৃণমূল পর্যবেক্ষক। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই অতিসক্রিয়তার নেপথ্যে আসলে রয়েছে ভবানীপুর কেন্দ্র। মমতা ঘনিষ্ঠ এই নেতার দাবি— “ওঁরা ইউপির সংস্কৃতি বাংলায় আনতে চাইছেন। আমাকে বন্দর নিয়ে নয়, আসলে ভবানীপুর নিয়ে হুমকি দিতেই এই মাঝরাতে আগমন।” অমিত শাহকে কড়া আক্রমণ: ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ফিরহাদ বলেন, “আমি বহুদিন বিরোধী দলে ছিলাম, কিন্তু এভাবে রাতের অন্ধকারে পুলিশ আসা ভাবতেই পারিনি। এসবই অমিত শাহ করাচ্ছেন। আমাদের পাড়ার মানুষ খেপে গিয়েছে। যারা বিজেপিকে ভোট দেওয়ার কথা ভাবছিল, তারাও এখন আর দেবে না।” তিনি আরও যোগ করেন, ৪ঠা মে ভোটের ফল প্রকাশের পরেই পরিষ্কার হবে কার কত আয়ু।
নিরাপত্তার চাদরে কলকাতা: দ্বিতীয় দফার ভোটে শান্তি বজায় রাখতে কোমর বেঁধে নেমেছে নির্বাচন কমিশন। শুধুমাত্র কলকাতাতেই মোতায়েন করা হয়েছে ২৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। তবে মেয়রের বাড়িতে মধ্যরাতের এই হানা নির্বাচনী উত্তাপকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। মেয়রের এই ‘অপমান’ কি ভোটের বাক্সে প্রভাব ফেলবে? উত্তর মিলবে খুব শীঘ্রই।





